রঞ্জিত সাউ, কলকাতা: হাওয়া আছে কি না দেখতে গিয়েছিলেন। মাথা গলিয়েছিলেন টার্মিনাসে দাঁড়িয়ে থাকা বাসের নীচে। কিন্তু সেই বাসেরই নীচেই পিষ্ট হয়ে বেঘোরে মারা গেলেন এক যুবক। হাইড্রোলিক লিফটের সাহায্যে বাসটিকে উঁচুতে তুলে রাখা হয়েছিল। আচমকা বাসটি সজোরে নেমে আসাতেই ওই যুবকের তার নীচে চাপা পড়লেন বলে মনে করা হচ্ছে। (Karunamoyee Bus Terminus)
করুণাময়ী বাস টার্মিনাসে এই ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা ঘটেছে। মৃত যুবকের নাম রাজু দাস। তিনি মধ্যমগ্রামের বাসিন্দা। বাসে কন্ডাক্টর হিসেবে কাজ করতেন তিনি। এদিন করুণাময়ী বাস টার্মিনাসেই দাঁড়িয়ে ছিল বাসটি। হাইড্রোলিক লিফটের সাহায্য়ে উঁচুতে তোলা ছিল। সেই সময় মাথা গলিয়ে হাওয়া আছে কি না দেখছিলেন। আর তাতেই মর্মান্তিক পরিণতি হয় তাঁর। (Kolkata News)
জানা গিয়েছে, কোনও কারণে বাসের স্টার্ট বন্ধ হয়ে যায়। এমতাবস্থায় হাইড্রোলিক লিফটের ধীরে ধীরে নেমে আসার কথা ছিল। কিন্তু আচমকা, সজোরে এসে পড়ে বাসটি। আর তার নীচেই চাপা পড়েন রাজু। আশেপাশের সকলে এসে কোনও রকমে উদ্ধার করেন তাঁকে। কিন্তু তত ক্ষণে রাজুর শরীর থেকে প্রাণ বেরিয়ে গিয়েছে বলে জানা যায়।
এই ঘটনায় তদন্তে নেমেছে বিধাননগর উত্তর থানা। কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি থেকে এই ঘটনা ঘটেছে কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। করুণাময়ী বাস টার্মিনাসটি শহরের অন্যতম ব্যস্ত বাস টার্মিনাস। শুধু কলকাতার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করাই নয়, গোটা রাজ্যের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বহু দূরপাল্লার বাস ছাড়ে সেখান থেকে। সেখানে এমন ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে।
এদিনই ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনার খবর সামনে আসে বাংলাদেশ থেকেও। সেখাকার রাজবাড়িতে বাস দুর্ঘটনা ঘটে। ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায় যাত্রীবোঝাই বাস। দুর্ঘটনার সময়ে বাসে অন্ততপক্ষে ৪০ জন যাত্রী ছিলেন। মহিলা-সহ অন্তত ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। আরও বেশ কয়েকজন যাত্রী নিখোঁজ। বুধবার রাত ১১টা নাগাদ অর্থাৎ দুর্ঘটনার প্রায় ৬ ঘণ্টা পর, ক্রেনের সাহায্যে জলের ওপরে তোলা হয় বাসটি।
