কলকাতা: হামলাকারী SI-র (Kasba DI Office Chaos) পাশে দাঁড়িয়ে শিক্ষকদেরই নিশানা করল পুলিশ। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মার দাবি, শিক্ষকদের হাতেই আক্রান্ত পুলিশ। শিক্ষকরা ওখানে গিয়ে মারধর করবে, এটা প্রত্যাশিত ছিল না। 

শিক্ষকদেরই নিশানা: কসবার DI অফিসের সামনে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। চাকরি চাইতে গিয়ে মিলেছে পুলিশের লাঠি। ধাক্কাধাক্কিতে অসুস্থ হয়ে পড়েন একাধিক শিক্ষক। লাঠির আঘাতে মাটিতে পড়ে যান চাকরিহারাররা। এমনকী লাথিও মারা হয় তাদের। যা নিয়ে পাল্টা পুলিশের তরফে দাবি তাদের উপরও হামলা হয়েছে। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে ভিডিও দেখিয়ে পুলিশ তরফে দাবি করা হয়, তালা ভেঙে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন আন্দোলনকারীরা। ব্যারিকেড ভেঙে ঢোকার চেষ্টা করলেও শান্তভাবে আটকানোর চেষ্টা করেছিল পুলিশ। শেষমুহূর্তে আত্মরক্ষায় বলপ্রয়োগ করতে বাধ্য হয়েছে পুলিশ। লালবাজারের তরফে দাবি, কসবাকাণ্ডে বিক্ষোভকারীদের হাতে ১৩জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন।  কসবার এই ঘটনায় হামলাকারী SI-র পাশে দাঁড়িয়ে শিক্ষকদেরই নিশানা করেছে পুলিশ। কলকাতা পুলিশ কমিশানর মনোজ বর্মা বলেন, "শিক্ষকরা ওখানে গিয়ে মারধর করবে, এটা প্রত্যাশিত ছিল না। তালা লাগানোর কথা ছিল, সেটা হয়নি। যে অফিসারের বিরুদ্ধে লাথি মারার অভিযোগ এসেছে, ওঁর মেডিক্যাল রিপোর্ট দেখুন। তিন দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিল। ডাক্তার ওঁকে বাড়ি পাঠিয়েছে। হাঁটাচলার ক্ষমতা নেই। ১৪ দিন পর MRI করা হবে। স্বাভাবিকভাবে কবে হাঁটতে পারবে ঠিক নেই। বুকে ব্যথা। চশমা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। কানে চড় মারা হয়েছে। পুলিশের উপর চড়াও হবে পুলিশ পদক্ষেপ নেবে না এটা হতে পারে না। তবে লাথি মারা কাম্য নয়। ভুল যাতে আর না হয় সেটা নিয়ে সবসময়ই আমরা আলোচনায় বসি।''

বুধবার, চাকরিহারাদের কসবার DI অফিস অভিযান ঘিরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। চাকরিহারা শিক্ষকদের লাঠি-ধাক্কা মারা হয়। এমনকী শিক্ষকদের গায়ে লাথি মারতে দেখা যায় পুলিশ অফিসারকে। কসবা থানার সেই সাব ইন্সপেক্টর, রিটন দাসকেই, প্রথমে কসবাকাণ্ডে তদন্তকারী অফিসারের দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রবল সমালোচনা, তুমুল বিতর্কের মধ্য়ে পরে, সেই SI, রিটন দাসকে তদন্তকারী অফিসার বা IO-র ভূমিকা থেকে সরানো হল। আর সেই অফিসারের পাশে দাঁড়িয়ে শিক্ষকদের নিশানা করল পুলিশ।