কলকাতা: আইন কলেজেই আইন ভঙ্গের ভয়ঙ্কর অভিযোগ। এবার শিক্ষাঙ্গনে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠল। যেখানে শিক্ষার আলো জ্বলে ওঠে, সেখানে এ কেমন অন্ধকার? এবার এই প্রশ্ন তুলল জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্য। দক্ষিণ কলকাতার ল’কলেজের মধ্যে ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগে উত্তাল রাজ্য।

জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্য ড: অর্চনা মজুমদার বলেন, 'কলেজে একটি মেয়েকে গণধর্ষণ করা হচ্ছে? এ কখনও কল্পনা করা যায়? একটি প্রতিষ্ঠানে যেখানে সে তার বন্ধুদের সঙ্গে পড়াশোনা করে, তাকে গণধর্ষণ করা হবে? ঘটনাটি ঘটার পর এবং মেয়েটি যখন বলেছে এরপর কেবল তখনই পুলিশ ব্যবস্থা নেয় এবং গ্রেফতার করে। যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গিয়েছে ততক্ষণে। আমরা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে পশ্চিমবঙ্গের পুলিশের ডিজিকে একটি চিঠি লিখে ৭২ ঘন্টার মধ্যে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে রিপোর্ট করতে বলেছি।' 

চিঠিতে তারা লিখেছে, কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে চিঠি লিখে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চেয়ারপার্সন বিজয়া রাহতকর এবং অবিলম্বে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার উপযুক্ত ধারায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। নির্যাতিতাকে চিকিৎসা, মনোস্তাত্বিক এবং আইনি সহায়তার পাশাপাশি ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৯৬ ধারায় ক্ষতিপূরণের বিষয়েও জোর দিয়েছেন তিনি। 

এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে, মূল অভিযুক্ত, প্রাক্তন TMCP নেতা ও এবং কলেজের অস্থায়ী কর্মী মনোজিৎ মিশ্র (৩১) এবং কলেজের দুই পড়ুয়া প্রমিত মুখোপাধ্যায় (২০) এবং জেব আহমেদকে (১৯)।  

এখনও আর জি করে চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনের ঘটনা টাটকা স্মৃতি। ২০২৪ এ শহরের প্রখ্যাত মেডিকেল কলেজে এই ঘটনার পর এবার শহরের বুকে এই রকম জায়গায় অবস্থিত কলেজের ভয়ঙ্কর ঘটনায় ফের প্রশ্নের মুখে শহরের নারী নিরাপত্তা। কেন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হবে মহিলাদের?  কেন সুরক্ষিত পরিবেশ তাদের দেওয়া যাবে না? মহিলারা যখন আজ সমাজকে রকেট গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, সেখানে পশ্চিমবঙ্গের বুকে আইন কলেজ হোক কিংবা মেডিক্যাল কলেজ দুই অভিজাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে দুই মহিলার সঙ্গে ঘটে গেল ভয়ঙ্কর ঘটনা।