শিবাশিস মৌলিক, সুদীপ্ত আচার্য, সন্দীপ সরকার, কলকাতা : কসবাকাণ্ডের প্রতিবাদে গড়িয়াহাট থেকে হাজরা পর্যন্ত ছিল অভয়া মঞ্চের মিছিল। এই নাগরিক মিছিলে ছিলেন বিনোদন জগতের অনেকেই। মিছিলে হেঁটেছেন চন্দন সেন। কসবা কলেজের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, 'যদি নিয়ন্ত্রণে আসার হতো, তাহলে পার্কস্ট্রিট, কামদুনিতেই হতে পারত। সেখান থেকে এদের নেত্রী পরিষ্কার বলে দিয়েছেন, কিচ্ছু হবে না, তোরা যা পারিস কর এবং সেটারই ফল এটা। নিয়ন্ত্রণ কী করে আসবে সেটাকে যদি সেটাকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়? যদি কেউ দেখে যে অপরাধ করলে শাস্তি হচ্ছে না, তাহলে কেন সে নিয়ন্ত্রিত হবে, সে আবার করবে। আমি জানিয়ে রাখলাম, অলরেডি তো দেখতে পাচ্ছেন, দিনে দুপুরে গুলি করছে একে অপরকে বখরার ভাগ নিয়ে। এবার দেখবেন দিনে দুপুরে কলেজে গুলি করবে, বখরার ভাগ নিয়ে।' 

মিছিলে ছিলেন অভিনেতা বাদশা মৈত্রও। কসবাকাণ্ড নিয়ে বাদশা বলেছেন, 'এই যে ছেলেটি, সে ঘটনা ঘটানোর পর, বাড়ি চলে গিয়েছিল। সে খুব নিরুত্তাপ ছিল। আমরা ধারণা এবং কাগজে এখন যা বেরোচ্ছে, যে এরম ঘটনা আগেও সে আগেও ঘটিয়েছে। সে ভেবেছিল, যা যা করেছিল, তার ভয়ে মেয়েটি প্রকাশ করবে না। কনফিডেন্ট ছিল সে যে, ঘটনা প্রকাশ্যে আসবে না। তার মানে এই সরকার, এই প্রশাসন, রাজনৈতিক দল তারা বিভিন্ন পদে এইসব মানুষদের বসিয়ে রেখেছে যারা আসলে একটা সময়ে এক একটা সমাজ বিরোধী। তো সমাজবিরোধীদের যদি ক্ষমতায় বসানো হয়, কলেজে চাকরি দেওয়া হয়, কলেজের ভর্তি যদি সে নিয়ন্ত্রণ করে, তার বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর থাকার পরেও যদি পুলিশ তার টিকিটি ছুঁতে না পারে, তাহলে কি সে মেয়েদের খুব সম্মান করবে বলে মনে হয়? আমার মনে হয় না। এটা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।' 

ছিঃ ব্যাজ পরে আজকের মিছিলে হেঁটেছেন অনেকেই। তাঁদের মধ্যে অন্যতম অভিনেতা দেবদূত ঘোষ। সিপিএম- এর হয়ে নির্বাচনেও লড়েছিলেন দেবদূত। আজ অভিনেতা বলেছেন, 'ছিঃ শব্দটার গুরুত্ব অনেক। বুকের ভিতর থেকে বেরিয়ে আসা আওয়াজ। কলকাতার একেবারে মাঝখানে, দক্ষিণ কলকাতার মধ্যে একটা কলেজে যদি এই ঘটনা ঘটে, তাহলে প্রান্তিক জায়গাতে মানুষদের অবস্থা কী? মহিলাদের অবস্থা কী? অল্প বয়সী মেয়েদের অবস্থা কী? এটা অত্যন্ত ভয়ের, আতঙ্কের পরিবেশ। যারা এটা ঘটাচ্ছে তাদের শুধুই ছিঃ ছিঃ ছিঃ।'

এদিনের মিছিলে ছিলেন আর জি কর কাণ্ডের অন্যতম মুখ আশফাকুল্লা নাইয়া। ছিলেন সিনিয়র ডাক্তারদেরও অনেকেই। তমোনাশ চৌধুরী, সুবর্ণ গোস্বামী, পুণ্যব্রত গুঁই, মানস গুমটা, উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায়- এই সিনিয়র ডাক্তারদের এদিনের মিছিলে হাঁটতে দেখা গিয়েছে।