কলকাতা: উত্তরাখণ্ডের পর জম্মু-কাশ্মীরের কিশতোয়ার। মেঘ ভাঙা বৃষ্টিতে সিআইএসএফ জওয়ান-সহ অন্তত ৪৬ জনের মৃৃত্যু। নিখোঁজ বহু। বৃহস্পতিবার দুপুরে চশোতী গ্রামের কাছে মচৈল মাতা মন্দিরের কাছে দুর্ঘটনায় মৃত ৪৬ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

গোটা দেশ যখন স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে মেতে, তখন কাশ্মীরের কিশতওয়ারে শোকের ছায়া। উত্তরকাশীর পর কাশ্মীরের এই জেলাও প্রকৃতির তাণ্ডবে বিধ্বস্ত। ফের নেমে এসেছে বিপর্যয়। দেবভূমির পর এবার ভূস্বর্গ ভয়ঙ্কর। প্রথমে তীব্র একটা বিস্ফোরণের শব্দ। কিছু বুঝে ওঠার আগেই পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নেমে এল জল-কাদা আর পাথরের স্রোত। মেঘ ভাঙা বৃষ্টির জেরে, প্রায় সাড়ে চার ফুট উঁচু হয়ে ধেয়ে আসা হড়পা বানে ভেসে গেল জম্মু-কাশ্মীরের কিশতোয়ারের চিশোতি গ্রাম।

স্থানীয় সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার মচৈল মাতা মন্দির দর্শনের জন্য কয়েকশো পুণ্যার্থী হাজির হয়েছিলেন চিশোতি গ্রামে। দুপুরে আচমকা মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে হড়পা বান নেমে আসায় অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে পারেননি। ভেসে যান বহু পুণ্যার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দা। উত্তরাখণ্ডের ধরালির ছবি এবার জম্মু ও কাশ্মীরের কিশতওয়ারে। সূত্রের খবর, মৃতদের মধ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী সিআইএসএফের ২ জওয়ানও রয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রায় ২০০ মানুষ এখনও নিখোঁজ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন বেলা ১২টার পর থেকে মেঘের পরিমাণ একটু একটু বাড়ছিল। সাড়ে ১২টা নাগাদ হঠাৎ জোরালো একটা আওয়াজ হয়, তারপরই নেমে আসে হড়পা বান। 

কী এই মেঘ ভাঙা বৃষ্টি? মেঘভাঙা বৃষ্টি আসলে হঠাৎ করে অতিভারী বৃষ্টি। নির্দিষ্ট এবং সীমিত এলাকা জুড়ে হয় এই বৃষ্টি। সংজ্ঞা অনুযায়ী, ১০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এক ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটার বা তার বেশি বৃষ্টিপাত হলে, তাকে মেঘভাঙা বৃষ্টি বলে।এই প্রথম নয়, এর আগে ২০১৩ সালের ১৬ জুন কেদারনাথে মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে। মৃত্যু হয় অন্তত চার হাজার মানুষের। ২০২১ সালে জোশীমঠের বিপর্যয় আরও এক বার উস্কে দেয় সেই ঘটনার স্মৃতি। ২০২৪-এও হড়পা বান ধাক্কা দেয় উত্তরাখণ্ড এবং হিমাচল প্রদেশে। কয়েকদিন আগেই ভয়ঙ্কর প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটেছে উত্তরকাশীতে। সেই সব স্মৃতি ফিকে হতে না হতেই ফের, বিপর্যয়। এবার কাশ্মীর। কিন্তু কেন বার বার ঘটছে এমন ভয়াবহ ঘটনা? কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়রে ভূতত্ত্ব বিভাগের প্রধান বাপি গোস্বামী বলেন, " ওয়েস্টার্ন হিমালয়ে গাছ কাটা অনেক বেশি হয়েছে। ফলে সেখানে পাহাড় বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। ফ্ল্যাশ ফ্লাড এলে প্রচুর পরিমাণে কাদা বালি নুড়ি নেমে আসে। সঙ্গে সঙ্গে ধস নামছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই মানুষের হাত রয়েছে। সাবধান না হলে আরও হবে, বেশি হবে।''