অর্ণব মুখোপাধ্যায়, কলকাতা: রাজ্য়ে সরকার পাল্টেছে। একের পর এক ফাইল খুলছে। তদন্ত কমিশন তৈরি হচ্ছে। এই আবহে এবার স্ক্য়ানারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তি। তাঁর কোম্পানি ও পরিবারের একাধিক ঠিকানায় ১৭টা নোটিস পাঠাল কলকাতা পুরসভা। সোমবারই ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বে সভা করে একেবারে নাম করে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গতকাল মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। লিপস অ্য়ান্ড বাউন্ডসের ১৪টা, নিজের নামে ৪টে, বাবার নামে আরও ৬টা, ২৪টা প্রপার্টি।
আরও পড়ুন, 'কেন বহিষ্কার করা হচ্ছে না জাহাঙ্গিরকে?', প্রশ্ন তৃণমূলের বৈঠকেই ! কী বললেন মমতা ?
এরপরই, অ্যাকশনে নামল কলকাতা পুরসভা। হরিশ মুখার্জি রোড, কালীঘাট রোড, প্রেমেন্দ্র মিত্র সরণি, পণ্ডিতিয়া রোড এবং ওস্তাদ আমির খান সরণির একাধিক ঠিকানায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মা-বাবা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোম্পানি লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের নামে কলকাতা পুরসভা ১৭টা নোটিস পাঠাল। ২০২৩-এর সেপ্টেম্বরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই জানিয়েছিলেন, তিনি লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের CEO ১৮৮-র A, হরিশ মুখার্জি রোডে অবস্থিত, 'শান্তিনিকেতনে' লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের নামে নোটিস পাঠিয়েছে কলকাতা পুরসভা। কলকাতা পুরসভা ১৮৮-র A, হরিশ মুখার্জি রোডের এই বাড়িতে নোটিস দিয়েছে এবং এই নোটিস দেওয়া হয়েছে লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস প্রাইভেট লিমিটেডের নামে। এখানে যেটা বলা হয়েছে, যে অবৈধ অংশ রয়েছে, সেটাকে সাত দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলতে হবে অথবা ডেভিয়েশন কেন হল সেটা জানাতে হল, লিফট, এসকেলেটর...সেগুলোর জন্য অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, সেগুলো জানাতে হবে। না হলে কলকাতা পুরসভা নিজেই অবৈধ অংশ ভেঙে দেবে। এবং ভেঙে দেওয়ার পর, তার যে খরচ, সেই খরচও যিনি হচ্ছেন মালিক তার থেকে আদায় করা হবে।
KMC-র নোটিস পৌঁছেছে, ১১৯ কালীঘাট রোডের এই বাড়িতেও। ১২১, কালীঘাট রোডের এই বাড়িতে সাত-সাতটা নোটিস পৌঁছেছে।১২১ কালীঘাট রোডের এই বাড়িতে কলকাতা পুরসভা মোট সাতটা নোটিস দিয়েছে, যার মধ্যে পাঁচটি নোটিস লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের নামে, একটি লতা ও অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে, আর একটি শুধু লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে। প্রেমেন্দ্র মিত্র সরণি, অর্থাৎ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির গলিতে তিনটে ঠিকানায় নোটিস দিয়েছে কলকাতা পুরসভা।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির যে গলি, সেখানে তিনটি প্রিমিসেস রয়েছে, যেখানে তিন জন অ্যাসেসিকে নোটিস দিয়েছে কলকাতা পুরসভা। লতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁদের নামে নোটিস করা হয়েছে। উল্টোদিকেই রয়েছে ২৯A প্রেমেন্দ্রমিত্র সরণি, এখানে ও লতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে নোটিস করা হয়েছে। এটা হচ্ছে ২৯-এর C প্রেমেন্দ্রমিত্র সরণি, এখানে অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে একটি নোটিস দেওয়া হয়েছে এবং লতা ও অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে আরও দুটি নোটিস ইস্যু করা হয়েছে। এর পাশাপাশি নোটিস দেওয়া হয়েছে ১ B ওস্তাদ আমির খান সরণি এবং ৩৭ পণ্ডিতিয়া রোডের ঠিকানাতেও।
