কলকাতা: রাজ্যসভার উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী কোয়েল মল্লিক। গত ১৬ জুলাই রাজ্যসভায় তৃণমূল সাংসদের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন কোয়েল। এর আগে, বিজেপি-র টিকিটে রাজ্যসভার সাংসদ হন সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশচিক বরাইক। তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন তাঁরা। এবার সেই পথে হাঁটলেন কোয়েলও। শীঘ্রই তিনি বিজেপি-তে যোগ দেবেন বলে জানা যাচ্ছে। তিনি কবে পদ্মপতাকা হাতে তুলে নেবেন, তা এখনও জানা যায়নি। (Koel Mallick)
আগামী ১৬ অক্টোবর, ষষ্ঠীর দিন রাজ্যসভায় উপনির্বাচন। তার আগে রবিবার প্রার্থিতালিকা প্রকাশ করল বিজেপি, যাতে নাম রয়েছে কোয়েলের। অর্থাৎ তৃণমূলের পর এবার বিজেপি-র টিকিটে রাজ্যসভায় প্রার্থী হচ্ছেন অভিনেত্রী। তৃণমূল সাংসদ হয়েও কোয়েল যখন ইস্তফা দেন, সেই সময় থেকেই তাঁকে ঘিরে জল্পনা শুরু হয়। তিনি বিজেপি-তে যোগ দিতে পারেন বলে খবর সামনে আসে। সেই জল্পনাই সত্য প্রমাণিত হল রবিবার। কোয়েলের সেই ছেড়ে আসা আসনেই ফের নির্বাচন হচ্ছে। আর সেই আসনেই বিজেপি-র প্রার্থী হচ্ছেন কোয়েল। ৬ তারিখ মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। এই মুহূর্তে সমীকরণ যা বলছে, তাতে কোয়েলের সাংসদ হওয়া পাকা। তবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে বিজেপি-তে যোগ দিতে হবে তাঁকে। (BJP News)
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কোয়েলকে রাজ্যসভার প্রার্থী ঘোষণা করে তৃণমূল। ১৬ মার্চ নির্বাচন হলে তাতে জয়ী হয়ে সাংসদ হন কোয়েল। ৬ এপ্রিল রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে শপথও গ্রহণ করেন কোয়েল। বিশেষ দিনে দিল্লিতে মেয়ের পাশে ছিলেন রঞ্জিত মল্লিকও। উপস্থিত ছিলেন কোয়েলের স্বামী নিসপাল সিংহ রানে, ছেলে কবীরও। লাল পাড়, সাদা শাড়িতে শপথবাক্য পাঠ করেন কোয়েল। পরবর্তীতে লেবার, টেক্সটাইল এবং স্কিল ডেভলপমেন্ট কমিটির সদস্যও করা হয় তাঁকে। সাংসদ হিসেবে একটি অধিবেশনেও যোগ দেননি কোয়েল। তবে তৃণমূলের হয়ে নির্বাচনের প্রচারেও দেখা গিয়েছিল তাঁকে।
আরও পড়ুন: ১০ মার্চ ‘পশ্চিমবঙ্গ মিথ্যা দিবস’ পালনের প্রস্তাব শুভেন্দু অধিকারীর, যা জানালেন তিনি...
তবে বিধানসভা নির্বাচনে পালাবদলের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। তৃণমূল যখন ভেঙে খান খান, দিকে দিকে ডিম-ইঁট ছোড়া হচ্ছে দলের নেতানেত্রীদের, সেই আবহে গত ১৬ জুলাই রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করেন কোয়েল। কোয়েল এখন বিজেপি-র প্রার্থী হওয়ায় রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদসংখ্যা আরও কমে ৯ হয়ে গেল। বিধানসভা নির্বাচনের আগে পর্যন্ত সংখ্যাটা ছিল ১৩। রাজ্যে ভরাডুবির পর সুখেন্দুশেখর, প্রকাশ এবং সুস্মিতা পদত্যাগ করেছিলেন। পরে বিজেপি-তে যোগ দিয়ে আবার রাজ্যসভায় যোগ দেন তাঁরা। অন্য দিকে, পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিজেপি-র রাজ্যসভা সাংসদের সংখ্যা বেড়ে ৬ হয়েছে। কোয়েল সাংসদ হলে সংখ্যা বেড়ে হবে ৭।
কোয়েলকে প্রার্থী করা নিয়ে প্রতিক্রিয়া চাইলে সুকান্ত মজুমদার বলেন, "আপনারা জানেন, কয়েক জন রাজ্যসভার সাংসদ ইস্তফা দিয়েছিলেন। তাঁদের কিছু শর্ত ছিল...অবশ্যই কিছু শর্ত আছে। সময় আসুক বলব।"
