বিটন চক্রবর্তী, পূর্ব মেদিনীপুর: নাজিরাবাদ অগ্নিকাণ্ডের পর নিখোঁজ তমলুকের দেবাদিত্য দিন্দা। নাজিরাবাদের একটি গুদামে কাজ করতেন তিনি। তমলুকে গভীর উদ্বেগে তাঁর পরিবার। 

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, নাজিরাবাদে অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুমিছিল, গতকাল সন্ধে পর্যন্ত ২১টি দেহাংশ উদ্ধার ! আজ ময়নাতদন্ত

Continues below advertisement

জানা গিয়েছে, দেবাদিত্য দিন্দা একাদশ শ্রেণীর ছাত্র ছিল। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে তাঁর পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। সে কিন্তু শ্রমিক ছিল না। মাঝেমধ্যেই সে কিন্তু শ্রমিক ছিল না। ইতিমধ্যেই এলাকার বহু লোক, যারা এই পেশার সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের সঙ্গে সে মাঝেমধ্যে যেত। একইরকমভাবে ঘটনা ঘটার তিন দিন আগে, সে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। কিন্তু বাড়ি কিছু এবিষয়ে না জানিয়েই সে বাইরে বেরিয়েছিল। সে শুধু জানিয়েছিল, বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সে কলকাতা যাচ্ছে। 

আনন্দপুরের গুদামে শুধুই হতাশা-শোক-কান্না , জীবন্ত দেখতে পাওয়ার আশাটুরকু আর নেই!কিন্তু প্রিয়জনের দেহাংশটুকু অন্তত পাওয়া যাবে এই আশায় চাতকের মতো অপেক্ষা করছে বহু পরিবার। আনন্দপুরের গোডাউনে কাজ করতেন এমন বহু শ্রমিক এখনও নিখোঁজ। যাদের মধ্যে অনেকেরই বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরে। তমলুকের নিখোঁজ শ্রমিক গোবিন্দ মণ্ডল, রামপদ মণ্ডল, ও ক্ষুদিরাম দিন্দার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন ময়নার বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দা। আনন্দপুরের গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর, ময়নার বাসিন্দা নিখোঁজ ২ শ্রমিক বুদ্ধদেব জানা ও সৌমিত্র মণ্ডলের পরিবারের সঙ্গেও দেখা করেন দিন্দা।

 'ওয়াও মোমো'-র তরফে বিবৃতি দিয়ে পাল্টা দায় চাপানো হয়েছে পাশের গুদামের দিকেই। অভিযোগ, রাতে সেখানে বিনা অনুমতিতে রান্না করা হচ্ছিল। তা থেকেই আগুন লাগে, যা 'ওয়াও মোমো'-র গুদামকে গ্রাস করে ফেলে। এই ঘটনায় সংস্থার ৩ কর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি। তাঁদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেবে 'ওয়াও মোমো'। সঙ্গে দেওয়া হবে আজীবন মাসিক বেতন। কর্মীদের সন্তানদের পড়াশোনার খরচও বহন করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থা।

আনন্দপুরের গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার, প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর, ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিলেন দমকলমন্ত্রী। কিন্তু মুখ্য়মন্ত্রী কেন যাননি? এই প্রশ্ন লাগাতার তুলছে বিজেপি। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'সরকার চোখ বন্ধ করে আছে এবং মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বাড়ির অদূরে এই ঘটনা ঘটার পরও তিনি একাধিক আনন্দ অনুষ্ঠান, রাজনৈতিক কর্মসূচি, আইপ্যাক প্রণীত নানা ধরনের নির্বাচনী নাটক, ড্রামাতে অংশগ্রহণ করছেন। কিন্তু আনন্দপুরে তিনি যাওয়ার একবারও সময় পাননি। পরিবারগুলোরও খোঁজ নেওয়ার সময় পাননি। '