আবির দত্ত, কলকাতা : কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে ভয়ঙ্কর অগ্নিকাণ্ড। একেবারে কলকাতার পুরনো পাড়ায় ভয়াবহ আগুন। চারিদিক ঢেলেছে কুণ্ডলী পাকানো ধোঁয়ায়। খাস কলকাতার বি বি গাঙ্গুলি স্ট্রিটে একটি আসবাবপত্রের দোকানের আগুন গ্রাস করে নিল একের পর এক দোকানকে।

Continues below advertisement

সকালে ওই আসবাবের দোকান থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পরপর দোকানগুলিতে। শহরের এই অঞ্চলে বেশিরভাগই পুরনো বাড়ি। একই ছাদের নিচে গা-ঘেঁষাঘেঁষি করে একাধিক দোকান। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে দমকলের ১০ টি ইঞ্জিন। ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে আকাশ। এলাকায় একের পর এক দোকানে ছড়াচ্ছে আগুন। ঘিঞ্জি এলাকার বাসিন্দাদের মনেও ছড়িয়েছে আগুন-আতঙ্ক। ইতিমধ্যেই বড় ক্ষতির শিকার হয়েছেন দোকানদাররা। আর আশেপাশের বাসিন্দাদের ভয়, এই বুঝি লেলিহান শিখা ছুঁয়ে ফেলল তাদের বাড়িও। ইতিমধ্যেই একটি বাড়ির বাসিন্দাদের অভিযোগ দোকানগুলির আগুন থেকে তা ছড়িয়েছে তাঁদের বাড়িতেও।  

ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে কোমরবেঁধে কাজ করছে দমকলের ১০ টি ইঞ্জিন। একের পর এক দোকানে ছড়াচ্ছে আগুন। তা বাগে আনার চেষ্টা চলছে।  

Continues below advertisement

 

সম্প্রতিকালে আগুন আর কোথায় কোথায়     

নিউটাউনে আগুন

সপ্তাহখানেক আগেই নিউটাউনের থাকদাঁড়িতে আগুন লাগে একটি বহুতলের বন্ধ অফিসে। ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন এক জন।   হাসপাতালে ভর্তি করতেও হয় এক কর্মীকে। এই বহুতলে বেশ কয়েকটি সংস্থার অফিস রয়েছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে দমকলের ৬টি ইঞ্জিন । মোটা কাচে ঢাকা ছিল বহুতল। তাই কাচ ভেঙে ভিতরের ধোঁয়া বাইরে বার করা হয়। ধোঁয়ার জেরে ভিতরে ঢুকতে অসুবিধায় পড়েন দমকলকর্মীরাও। 

আনন্দপুরে আগুন 

একই দিনে আনন্দপুরের নোনাডাঙায় বিধ্বংসী আগুন লাগে। অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত হয়ে যআয় মাতঙ্গিনী কলোনির ১০০ টি ঘর।  একের পর এক গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়। শীতের রাতে সব হারিয়ে সহায় সম্বলহীন হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা । দমকলে জল ছিল না বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শেষ পর্যন্ত পার্শ্ববর্তী পুকুর থেকে জল তুলে আগুন নেভানো হয় বলে স্থানীয়সূত্রে খবর। 

গঙ্গাসাগরে আগুন                

সম্প্রতি বিধ্বংসী আগুন লাগার ঘটনা ঘটে গঙ্গাসাগরে। পুড়ে ছাই হয়ে যায় একাধিক অস্থায়ী ছাউনি। গঙ্গাসাগর মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরই বিধ্বংসী আগুন  লাগে। এদিন ভোররাতে ২ নম্বর স্নানঘাটে একাধিক অস্থায়ী ছাউনিতে আগুন দেখা যায়। মুহূর্তে আশেপাশের ছাউনিতে ছড়িয়ে পড়ে আগুন। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের ২ টি ইঞ্জিন ও পাঁচটি ফায়ার ফাইটিং বাইক। ঘটনাস্থলে পৌঁছান সাগরের বিডিও কানাইয়াকুমার রায় সহ প্রশাসনের পদস্থ আধিকারিকরা। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পুলিশ, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর, সংবাদমাধ্যম এবং বজরং পরিষদের একাধিক অস্থায়ী শিবির।