সমীরণ পাল, পার্থপ্রতিম ঘোষ, সৌরভ বন্দ্য়োপাধ্যায়, কলকাতা : পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আঁচ সরাসরি পড়েছে ভারতের হেঁশেলে। টান পড়েছে কলকাতার বিরিয়ানির হাঁড়িতেও। পার্ক সার্কাসের আরসালানে গ্যাসের পাশাপাশি কাঠের জ্বালানিতে রান্না শুরু হয়েছে। ব্যারাকপুরের বিখ্যাত দাদা বৌদির রেস্তোঁরাতেও গ্যাসের আকাল। পরিস্থিতি না পাল্টালে বিরিয়ানির হাঁড়ি কমাতে হবে বলে আশঙ্কা করছেন কর্ণধাররা।

Continues below advertisement

ধোঁয়া ওঠা সুগন্ধি বাসমতী চাল, জাফরানি রং, ডুমো করে কাটা আলু, গাঢ় বাদামি বেরেস্তা,সঙ্গে মস্ত একটা মাংসের টুকরো। বিরিয়ানির নাম শুনলেই জিভে জল। হায়দরাবাদি, আওধি, হান্ডি, কাচ্চি কত কিছু। কিন্তু গ্য়াসের আকালের জেরে বিরিয়ানিতেও কি এখন 'বিধিনিষেধ'?

ব্যারাকপুরের দাদা বৌদি হোটেল অ্যান্ড রেস্তোরাঁর কর্ণধার সঞ্জীব সাহা বলেন, "কালকে (আজ) অবধি মোটামুটি সিলিন্ডার আছে। কিন্তু তারপর কী হবে জানি না। বিরিয়ানি তো কাঠেও, সঙ্গে গ্যাসও লাগে আমার। যখন গ্যাস পাচ্ছি না, তখন স্পিড প্রোডাকশনটা, যে ফাস্ট প্রোডাকশনটা কমে যাবে।"

Continues below advertisement

গ্য়াসের সঙ্কটে পার্ক সার্কাসের আরসালানে বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছে। পার্ক সার্কাস আরসালানের ম্যানেজার সৈয়দ মুজাম্মেল হক বলেন, "ডিস্ট্রিবিউটর গ্যাস দিতে পারছেন না। আমাদের যে ডিস্ট্রিবিউটর আছেন উনি দিতে পারছেন না। বিরিয়ানি এখন কাঠে হচ্ছে। আমার এখন সময়ও প্রচুর লাগছে। প্রায় দেড় গুণ বেশি সময় লাগছে।"

এই পরিস্থিতিতে সমস্যায় পড়েছেন ছোট বিরিয়ানি ব্যবসায়ীরা। শ্রীরামপুরে বিরিয়ানির দোকানের মালিক সাহিল আফ্রিদি বলেন, "গ্যাসের রেট খুব বেড়ে গেছে। কালোবাজারি এত হচ্ছে যে ২৫০০ টাকা দিয়েও তাড়াতাড়ি পাচ্ছি না। দোকান বন্ধ করতে হতে পারে।

ট্রাম্প-নেতানিয়াহু-মোজতাবারা এখন কার্যত বিরিয়ানিরও শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জ্বালা এবার সাধারণ মানুষ টের পাচ্ছে পেটের জ্বালা দিয়ে। গ্য়াস সিলিন্ডারের অভাবে দিকে দিকে সমস্য়া। গ্যাস সিলিন্ডারের অভাবে দিকে দিকে সমস্য়া। গৃহবধূ থেকে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, ব্য়বসায়ী, হোটেল মালিক-হস্টেল মালিক থেকে রেস্তোরাঁ মালিক-মন্দির কর্তৃপক্ষ সকলেই দুর্ভোগে জেরবার। চাকরি যাওয়ার আশঙ্কা। এই পরিস্থিতিতে রান্নার গ্যাসের জোগান ঠিকঠাক রাখতে SOP জারি করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। যেখানে বলা হয়েছে, মিড ডে মিল রান্নার জন্য স্কুলগুলিতে, ICDS সেন্টারে, হাসপাতালের রান্নাঘরে এবং গৃহস্থের হেঁশেলে যাতে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের সরবরাহ স্বাভাবিক এবং পর্যাপ্ত থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। গতকাল সমস্ত দফতরের আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকও করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।