পার্থপ্রতিম ঘোষ, কলকাতা : কুমোরটুলি ঘাটে ট্রলি ব্যাগে মৃত দেহ ভরে এনে ফেলে রেখে চম্পট দিতে চেয়েছিলেন মধ্যমগ্রামের বাসিন্দা মা-মেয়ে। ধরা পড়ার পরপর একে একে যা তথ্য বেরিয়ে আসে, তা ভয়াবহ। গা শিউরে ওঠার মতো। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, সোমবার নয়, রবিবার বিকেলে খুন হয়েছিলেন সুমিতা ঘোষ। তারপর একেবারে পাকা খুনির মতো ঠান্ডা মাথায় দেহ লোপাটের প্ল্যান করে ফেলেন মা-মেয়ে। পুলিশ সূত্রে খবর,  মধ্যমগ্রামের বীরেশ পল্লির বাড়িতেই রাখা ছিল সুমিতার দেহ ! দেহ  নিয়ে কী হবে, বাড়িতে থাকলে তো গন্ধ ছড়াবে। এ কথা ভেবে এক ধরনের স্প্রে কিনে আনে তারা। তারপর সেই স্প্রে করে মৃহদেহের পচা গন্ধ আটকানোর চেষ্টা করা হয়। এরপর তারা ঠিক করে দেহ ট্রলি ব্যাগে ভরে পাচার করতে হবে। দেহ পোরার চেষ্টা হয় বাড়িতে থাকা ট্রলি ব্যাগে। তাতে ফলপ্রসূ না হয়ে , সোমবার কিনে আনে বড় ট্রলি ব্যাগ। কিন্তু দেহ ঢোকাতে গিয়ে দেখা যায়, ব্যাগটি দেহের তুলনায় ছোট। এক কালে হাসপাতালে কাজ করতে আরতি ঘোষ। তাই ছুরি কাঁচি চালাতে মোটামুটি সিদ্ধহস্ত সে।  ব্যাগের ভিতর ঢোকানোর আগে সে বঁটি দিয়ে কেটে ফেলে দুই পায়ের নীচের অংশ। কাটা হয়েছিল দুই পায়ের গোড়ালি। বঁটি ফেলে দেওয়া হয় পুকুরে। দেহ কোথায় ফেলা হবে, তার জন্য রেকি করতে বের হন মা-মেয়ে। কলকাতায় আসেন। সিদ্ধান্ত হয়, চেনা এলাকা বলে কুমোরটুলিতে এনে গঙ্গায় দেহ ফেলা হবে। 

এরপর ট্রলি ব্যাগে দেহ পুরে মঙ্গলবার সকালে কুমোরটুলিতে আসেন মা-মেয়ে আরতি ঘোষ ও ফাল্গুনী ঘোষ। মধ্যমগ্রাম থেকে ১৩০ টাকা দিয়ে ভ্যান ভাড়া করে ট্রলি ব্যাগ নিয়ে দু’জনে প্রথমে বারাসাত দোলতলা মোড়ে আসে। সেখান থেকে ৭০০ টাকায় ট্যাক্সি ভাড়া করে এসে পৌঁছয় কুমোরটুলি ঘাটে, খবর পুলিশ সূত্রে। পুলিশের কাছে ফাল্গুনীর দাবি, কুমোরটুলিতেই তাঁর বেড়ে ওঠা, তাই চেনা জায়গা বলেই তাঁরা এখানে এসে গঙ্গায় দেহ ফেলার ছক কষেছিল তারা।  খবর পুলিশ সূত্রে ।   

কীভাবে খুন হয়েছিলেন সুমিতা ঘোষ? কুমোরটুলিতে ট্রলি ব্যাগে দেহ উদ্ধারকাণ্ডে ধৃত ফাল্গুনী ঘোষকে নিয়ে মঙ্গলবারই মধ্যমগ্রামে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করেছো কলকাতা পুলিশ।  

আরও পড়ুন :

আবারও কেঁপে উঠল মাটি ! মঙ্গলের পর বুধেও ভয়াবহ কম্পন এই দেশে