কলকাতা : কলকাতায়  বড় ভূমিকম্প, প্রায় মিনিটখানেক টানা কম্পন। রিখটার স্কেলে মাত্রা ৫ । বিভিন্ন এলাকার বহুতলে জোর ঝটকা অনুভূত হয়। কলকাতার বিভিন্ন অংশে আতঙ্কে মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। কলকাতার আশপাশের বেশ কিছু জেলাতেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। দুপুর ১.২০ মিনিট নাগাদ কেঁপে ওঠে কলকাতার বিভিন্ন অংশ। 

Continues below advertisement

কোথায় উৎস ?                           

 সূত্রের খবর, রিখটর স্কেলে কম্পনের মাত্রা প্রায় ৫.৪। ভুমিকম্পপের উৎসস্থল বাংলাদেশের সাতক্ষীরা থেকে ১৭ কিমি দক্ষিণ-পূর্ব এলাকায় মাটির ১০ কিলোমিটার নীচে। সাতক্ষীরা থেকে কলকাতার দূরত্ব ১০০ কিলোমিটারেরও কম হওয়ায় কলকাতায় কম্পন অনুভূত হয় সব থেকে বেশি। এছাড়া হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়। তীব্রতা অনুযায়ী ভূমি কম্পকে চারভাগে ভাগ করা হয়৷ রিখটার স্কেলে ৪.৯ মাত্রা পর্যন্ত বলা হয় মৃদু কম্পন৷ ৫ থেকে ৬.৯ মাত্রা পর্যন্ত বলা হয় মাঝারি কম্পন৷ ৭ থেকে ৭.৯ মাত্রা পর্যন্ত বলা হয় তীব্র ভূমিকম্প৷ ৮ মাত্রার বেশি হলে বলা হয় অতি তীব্র কম্পন৷

Continues below advertisement

  শহরের বিভিন্ন এলাকার বহুতলের সঙ্গে জোর ঝটকা অনুভূত হয় নবান্ন, বিধানসভা থেকে নির্বাচন কমিশনের অফিস। আতঙ্কে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন সাধারণ মানুষ। নবান্ন খালি করে দেন কর্মীরা। বিধানসভার বাইরে বেরিয়ে আসেন বিধায়ক ও অন্য কর্মীরা। কলকাতার আশপাশের বেশ কিছু জেলাতেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এদিন কম্পনের জেরে লেকটাউন A ব্লকের একটি পোশাকের দোকানে ফাটল দেখা যায়। আতঙ্কে রাস্তায় চলে আসেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। শনিবারই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে। সেই অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল থেকে চরম ব্যস্ততা ছিল CEO দফতরেও। কিন্তু ভূমিকম্পের জেরে বেশ কিছুক্ষণের জন্য থমকে যায় কাজ।

 

কলকাতার ঝুঁকি কতটা? 

উত্তর থেকে দক্ষিণ। কলকাতাজুড়ে ডালপালা মেলেছে কংক্রিটের জঙ্গল। মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে আকাশছোঁয়া বহুতল। কিন্তু, শহরকে আধুনিকতার ছোঁয়া দিতে গিয়ে, কোথাও এই শহরের বাসিন্দারা বিপদের মুখোমুখি?  একের পর এক ভূমিকম্প দেখে বহু মানুষের মনেই এই প্রশ্ন মাথাচাড়া দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, এই আশঙ্কার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। অনেকে মনে করছেন, কলকাতায় ক্ষতির সম্ভাবনা সমূহ। বিধি মেনে পরিকাঠামো তৈরি করা উচিত। এখন যেখানে ক্র্যাক দেখা দিয়েছে, সেটা অশনি সঙ্কেত।