কলকাতা: ১ ঘণ্টার কিছু সময়ের বৃষ্টি, তারমধ্যেই জল থইথই অবস্থা কলকাতার। গতকাল দুুপুরে, তারাতলায় যে দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটেছে, গোডাউনের ছাদ ভেঙে পড়ে মৃত আর আহত শ্রমিকের সংখ্যা ক্রমশই বাড়ছে, সেখানে উদ্ধারকার্যে বাধা সৃষ্টি করেছে বৃষ্টি। প্রায় ২৫ ঘণ্টা ধরে তারাতলায় উদ্ধারকার্য চলছে। ইতিমধ্যেই মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১১। বহু শ্রমিক গুরুতর আহত। তাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আর শহরের অন্যদিকে ছবিও মোটেই আশাব্যঞ্জক নয়। ১ ঘণ্টার বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে রয়েছে এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালের একাধিক ওয়ার্ড। বিপাকে পড়েছে রোগী থেকে রোগীর আত্মীয়রাও!
জলে ডুবে স্ত্রীরোগ বিভাগ
হাসপাতাল মানেই সেখানে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা খুবই প্রয়োজন। কিন্তু বৃষ্টি হলেই কলকাতার যে সমস্ত হাসপাতাল জলমগ্ন হয়ে পড়ে, তার মধ্যে অন্যতম এই SSKM। ভারী বৃষ্টি হলেই এই হাসপাতালের অধিকাংশ ওয়ার্ড জলমগ্ন হয়ে পড়ে। আজকের ছবিটাও আলাদা নয়। আজ দুপুরে কলকাতায় বৃষ্টির জেরে, একাধিক ওয়ার্ড জলমগ্ন হয়ে পড়ে। স্ত্রীরোগ বিভাগ এবং কার্ডিওলজি বিভাগের ছবিটা ভয়াবহ। জল জমে গিয়েছে গোটা ওয়ার্ডেই। খাটের ওপর বসে রয়েছেন রোগীরা। প্রয়োজন হলেও নীচে নামতে পারছেন না তাঁরা। ওয়ার্ডের মধ্যে ভেসে বেড়াচ্ছে গামলা, চিকিৎসার অন্যান্য সরঞ্জাম!
জল জমে কার্ডিওলজি বিভাগেও
এখানেই শেষ নয়, কার্ডিওলজি বিভাগের ছবিটাও ভয়াবহ! সেখানে টেবিলের ওপর যন্ত্রপাতি রেখে চলছে চিকিৎসা। অধিকাংশ রোগীকেই খাটের ওপর বসে থাকতে হচ্ছে। জল জমে গিয়েছে SSKM-এর আউটডোরেও। ছবি দেখা গেল, একজন হার্টের রোগীকে স্ট্রেচারে শুইয়ে, জলের মধ্যে দিয়ে সেই স্ট্রেচার ঠেলে হাসপাতালের এক ওয়ার্ড থেকে অন্য ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। শুধু রোগীরা নয়, হাসপাতালে অধিকাংশ সময়েই রোগীর আত্মীয়দের পর্যন্ত থাকতে হয়। প্রয়োজনে বিভিন্ন ওষুধ এনে দেওয়া থেকে শুরু করে, রোগীকে বিভিন্ন পরীক্ষা করতে নিয়ে যাওয়া... এই সমস্ত কাজে সাহায্য করতে হয় রোগীর আত্মীয়দেরই। এক্ষেত্রে জল ভেঙে রোগীর আত্মীয়দের যাতায়াত করতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে দুর্যোগের ছবিটা ভয়াবহ।
অন্যদিকে প্রবল বৃষ্টিতে কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ ছিল উদ্ধারকার্য। বৃষ্টির প্রাবল্য কমতে ফের ধীরে ধীরে শুরু হয়েছে উদ্ধারকার্য। ধ্বংসস্তুপের নীচে আরও কোনও শ্রমিক আটকে রয়েছেন কি না, তা দেখা হচ্ছে, জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
