কলকাতা: নিউটাউনের পর কাঁকুড়গাছি, শহরে জোড়া অগ্নিকাণ্ড। মানিকতলা থানা এলাকার ঘোষবাগান লেনে আগুন। অক্সিজেন সিলিন্ডারের গোডাউনে বিধ্বংসী আগুন। অগ্নিকাণ্ডের জেরে একের পর এক সিলিন্ডার বিস্ফোরণ। কয়েক কিলোমিটার দূর থেকে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। 

Continues below advertisement

নিউটাউনের ঘুনি ঝুপড়ির পর এবার মানিকতলা কাঁকুড়গাছির গো়ডাউনে আগুন। গভীর রাতে মানিকতলা থানা এলাকার ঘোষবাগান লেনে অক্সিজেন সিলিন্ডারের গোডাউনে বিধ্বংসী আগুন লাগে। প্রায় কয়েক কিলোমিটার দূর থেকে মুহুর্মুহু সিলিন্ডার বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। 

দমকলের অন্তত ১৫টি ইঞ্জিনের তৎপরতায় নিয়ন্ত্রণে আসে সেই আগুন। রাতেই ঘটনাস্থলে যায় মানিকতলা থানার পুলিশ। উপস্থিত ছিলেন মানিকতলার তৃণমূল বিধায়ক সুপ্তি পাণ্ডে-ও। 

Continues below advertisement

স্থানীয় সূত্রে খবর, বুধবার রাত আড়াইটে নাগাদ, একটি অক্সিজেন সিলিন্ডারের গোডাউনে প্রথম আগুন লাগে। পাশে থাকা প্লাস্টিকের স্ক্র্যাপের গোডাউন সহ একাধিক গোডাউনে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, একের পর এক সিলিন্ডার বিস্ফোরণের জেরে ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে বাড়ির কাচের জানালা। আতঙ্কে বাড়ি ছেড়ে রাস্তায় চলে আসেন প্রচুর মানুষ।

এদিকে, বুধবার বিধ্বংসী আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল নিউটাউনের ঘুনি বস্তির বেশিরভাগ অংশ। শীতের রাতে গৃহহীন হয়ে পড়লেন কয়েকশো মানুষ। অনেকেই আবার দাবি করেছেন, এইসব ঝুপড়িতে বসবাসকারী বহু বাসিন্দাই ছিলেন বাংলাদেশি। দমকলের ২০টি ইঞ্জিন ২ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সরু রাস্তার কারণে প্রথম আধঘণ্টা যথেষ্ট বেগ পেতে হয় দমকলকে। 

গোটা এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে যান দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। তিনি বলেন, '২০০-র মতো ঘর পুড়ে গেছে, কোনও লোক মারা যায়নি, আহতও হয়নি, এটা আমাদের সৌভাগ্য, এখানে ভাল করে তদন্ত হবে, কাল ফরেন্সিক হবে, বিধায়ক আছে, তাঁরা করেছেন'।

গরিব মানুষগুলোর সর্বস্ব ছিল এই ঝুপড়ি। মাথার উপরের ছাদের সঙ্গে ছাই হয়ে গেছে পরনের কাপড়, প্রয়োজনীয় নথি, টাকা পয়সাও। শীতের রাতে ঘুনি বস্তি জুড়ে শুধুই হাহাকার। এক বাসিন্দা বলেন, 'স্থানীয় লোকের জায়গা, ভাড়া দিয়ে রেখেছিল, আমার পাশের রাষ্ট্র, নাম বলছি না, সেই রাষ্ট্র থেকে আসা লোক, তারা এখানে বাইরে থেকে কাগজ, আবর্জনা, কুড়িয়ে এনে জমা করে, তারা পরিকল্পনাহীনভাবে চলাফেরা করে, তাদের দ্বারা আজ এই আগুন লেগেছে, এই নিয়ে ৩ বার আগুন লাগল। স্থানীয় লোকেরা আতঙ্কে ভুগছে, যারা ব্যবসা করায় তারা বুক ফুলিয়ে ঘুরছে, আমরা প্রতিবাদ করতে গেলে আমাদের আক্রমণ করা চেষ্টা করে। '