সন্দীপ সরকার, কলকাতা : গত এক বছরে কলকাতার সেন্ট্রাল ড্রাগ ল্য়াবে ওষুধের গুণমান পরীক্ষায় ফেল করেছে ৩২%-নমুনা। পূর্ব ভারতের এই নমুনাগুলির মধ্য়ে পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি বিহার, ঝাড়খণ্ড ও সিকিমের নমুনাও রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, সুস্থ থাকার জন্য যে ওষুধ আপনি খাচ্ছেন, তা আপনাকে অসুস্থ করছে না তো?


'ফেল করা ওষুধ বেচাকেনা নয়'


সম্প্রতি, গুণমান যাচাইয়ে অনুত্তীর্ণ হওয়া ওষুধের তালিকা প্রকাশ করেছে সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্য়ান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন বা CDSCO, এই তথ্য সাধারণ মানুষের বুকে কাঁপুনি ধরিয়েছে। এই প্রেক্ষিতে গুণগত মানের পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহার বন্ধ করতে নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। পরীক্ষায় ফেল করা ওষুধ বেচাকেনা করা যাবে না- বলে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগ।  



রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে, জাল আর নিম্নমানের ওষুধ


রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে, জাল আর নিম্নমানের ওষুধ। জাল ওষুধের রমরমার এই সময়েই উদ্বেগ বাড়িয়েছে সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্য়ান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশনের পরীক্ষার রিপোর্ট। CDSCO-র রিপোর্ট বলছে, গত এক বছরে দেশে হয় ডাহা ফেল, বা জাল বলে চিহ্নিত হয়েছে মোট ৯৭৬ টি ওষুধ। এর মধ্যে কলকাতার সেন্ট্রাল ড্রাগ ল্যাবে ফেল করেছে ৩১২টি ওষুধ।

কী কী ওষুধ তালিকায়


CDSCO-র রিপোর্টে বলা হয়েছে,  রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার ওষুধ, পেটের আলসারের ওষুধ, রিঙ্গার ল্যাকটেট সলিউশন
কলকাতায় ফেল করা নমুনার মধ্যে রয়েছে 'বেঙ্গল কেমিক্যালস অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড'-এর অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল ইনজেকশন। লিভারের অসুখে ব্যবহার হওয়া ওষুধ, স্ত্রীরোগ ও ত্বকের অসুখে ব্যবহৃত ওষুধ। এছাড়া রয়েছে সর্দি-কাশি-অ্যালার্জির ওষুধও। কলকাতার সেন্ট্রাল ড্রাগ ল্য়াবে আর যে ওষুধগুলো ফেল করেছে, তার মধ্যে রয়েছে ব্যথা-যন্ত্রণা কমানোর ওষুধ।

রক্ত জমাট বাঁধা ঠেকাতে ব্যবহৃত হেপারিন ইঞ্জেকশন, ডায়াবেটিসের ওষুধ, হৃদরোগ ও স্নায়ু রোগে আক্রান্তদের রক্ত তরল রাখার ওষুধ, প্যারাসিটামল, ভিটামিন B12 ইঞ্জেকশন, হজমের ওষুধ, থাইরয়েডের ওষুধ, প্লেটলেট নিয়ন্ত্রণকারী ওষুধ, খিঁচুনি কমানোর ইঞ্জেকশন।


ফেল করা ওষুধের তালিকায় রয়েছে, Calcium Carbonate & Vitamin D3 ট্যাবলেট, অ্যান্টিবায়োটিক Cefpodoxim, নিউমোনিয়ার ওষুধ, শিশুদের জন্য ব্যবহৃত সর্দি কাশির সিরাপ। এমনকী তালিকায় রয়েছে নামী সংস্থার সাবান, শ্যাম্পু, হেয়ার কালার, চুলের জেল, স্কিন কন্ডিশনার।

CDSCO-র রিপোর্টে অনুযায়ী, কোনও ওষুধ জাল, কোনও ওষুধ নিম্নমানের আবার কোনও ওষুধে মিশে রয়েছে দূষিত পদার্থ। কোনও কোনও ওষুধ শোধিত তরল দিয়ে বানানো হয়নি। কোনও কোনও ওষুধ নামী কোম্পানির ব্র্যান্ডনেম, স্ট্রিপ, ব্যাচ নম্বর জাল করে বানানো। এরই মধ্য চলতি মাসে রাজ্য drug কন্ট্রোল এর পরীক্ষায় ফেল করেছে আরও দুটি ওষুধ। দুটোই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ। একটি ওষুধ নামি বহুজাতিক সংস্থার। আরেকটি ওষুধের কারখানা হুগলির শ্রীরামপুরে।