কলকাতা: ফের মেট্রোয় আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা ঘটল। যার জেরে দীর্ঘ সময় ব্যাহত থাকল মেট্রো পরিষেবা। রবিবার ছুটির সন্ধ্যায় একবার মেট্রোযাত্রীদের ভোগান্তি। নেতাজি ভবন স্টেশনে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন একজন। ময়দান-টালিগঞ্জ বন্ধ মেট্রো পরিষেবা। টালিগঞ্জ থেকে ব্রিজি ও দক্ষিণেশ্বর থেকে ময়দান পর্যন্ত চলছে মেট্রো। মেট্রো পুলিশ সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী সন্ধে ৬.৩২ এ ঘটনাটি ঘটে।
কলকাতা মেট্রোয় বিভ্রাট এখন রোজকার খবর হয়ে গিয়েছে। গত সপ্তাহের শুরুতেই এমনটা হয়েচিল। যান্ত্রিক ত্রুটিতে দক্ষিণেশ্বর থেকে টালিগঞ্জ পর্যন্ত বন্ধ ছিল মেট্রো পরিষেবা। তার কিছুদিন আগে টালিগঞ্জ স্টেশনে ঢোকার একটু আগেই থমকে গিয়েছিল দক্ষিণেশ্বরগামী পাতাল রেলের চাকা। ৪০মিনিটের ওপর কামরায় বন্ধ থাকার পর, চালকের দরজা দিয়ে বের করা হয় আটকে পরা যাত্রীদের। থার্ড রেলের ঝুঁকি পেরিয়েই আসতে হয় টালিগঞ্জ স্টেশনে। ঘটনার পর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। মেট্রোরেল সূত্রে খবর, রেকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আচমকা থমকে যায় চাকা। প্রায় পৌনে দু'ঘণ্টা পর পরিস্থিতি আয়ত্তে আসে। ছড়ানো হাইভোল্টেজ বিদ্যুতের তার! মেট্রোর সেই থার্ড রেল বাঁচিয়ে কার্যত হাতের মুঠোয় প্রাণ নিয়ে পৌঁছতে হয়েছিল টালিগঞ্জ স্টেশনে! গত বছর শেষের শেষ রবিবার কলকাতা মেট্রোয় সওয়ার হয়ে এভাবেই বেনজির ভোগান্তি পোহাতে হয়েছিল যাত্রীদের। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ছিল, সকাল ১১টা ১৫ নাগাদ, টালিগ়ঞ্জ স্টেশনে ঢোকার মুখে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি দিয়ে বন্ধ হয়ে যায় দক্ষিণেশ্বরগামী মেট্রো। অভিযোগ, বন্ধ হয়ে যায় আলো, AC-সহ রেকের সমস্ত পরিষেবা। হাঁসফাঁস ভিড়ে প্রায় দমবন্ধ অবস্থায় অন্তত ৪০ মিনিট কাটাতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন মেট্রো যাত্রীদের একাংশ।
ভুক্তভোগী মেট্রো যাত্রীর কথায়, টালিগঞ্জে ঢোকার সময় মেট্রোর সমস্যা হল। ৪০ মিনিট কোনও সার্ভিস আমরা পাইনি।পুরো বসেছিলাম, সাফোকেশন (দমবন্ধ পরিস্থিতি) তৈরি হচ্ছিল।ব্রেক মারার পর পুরো লোডশেডিং হয়ে গেল। AC বন্ধ! লাইট বন্ধ হয়ে গেল!প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে বসে রয়েছি। স্টাফ বাইরে ঘোরাঘুরি করছে, কিন্তু কেউ গেটটা ওপেন করছে না।'দুর্ভোগের এখানেই শেষ নয়।মেট্রোর ব্লু লাইনের যাত্রীদের অভিযোগ,দীর্ঘক্ষণ পর আটকে পড়া মেট্রোর যাত্রীদের চালকের কামরা দিয়ে বাইরে বের করে আনা হয়।থার্ড লাইন এড়িয়ে আসতে হয় টালিগঞ্জে। যা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন মেট্রো যাত্রীরা। এদিন ফের সন্ধেবেলা মেট্রো পরিষেবা ব্যাহত হল।