অর্ণব মুখোপাধ্যায়, কলকাতা : খোলা হয়নি অধিবেশন কক্ষ। নজিরবিহীন ঘটনা ঘটল কলকাতা পুরসভায়। হাউসের বাইরেই বসল হাউস। ঘর না খোলায় কাউন্সিলর্স ক্লাব রুমে হাউস বসালেন তৃণমূল কাউন্সিলররা। চেয়ারপার্সন বলা সত্ত্বেও খোলা হয়নি ঘর, এমনই অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলররা।
এই নজিরবিহীন পরিস্থিতি কেন ঘটল ?
এই হাউস করার আগে চেয়ারপার্সন মালা রায় কলকাতা পুরসভার সেক্রেটারিকে একটি চিঠি পাঠান। সেক্রেটারি পোস্টের কাছে চিঠিটি ফেলা হয়। তাতে কারো নাম নেওয়া হয়নি। কিন্তু, একটি চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, চেয়ারপার্সন যখন না থাকেন, তখন আপনি কী করে এই হাউস স্থগিত করতে পারেন ?' তারপরে তাঁরা চাবি চান। কিন্তু, তাঁরা তা পাননি।
কারণ, নতুন সেক্রেটারি জানান, তিনি এখনও দায়িত্ব নেননি। ফলে, এসব করা সম্ভব নয়। শেষ পর্যন্ত হাউসের চাবি পাওয়া যায়নি। তাই কাউন্সিলর্স ক্লাব রুমে অধিবেশন বসে। অধিবেশনে যোগ দেন মূলত তৃণমূল কাউন্সিলররা। আর কেউ নন। সেখানে একটি মুলতুবি প্রস্তাব আনা হয়েছে।
মেয়র ফিরহাদ হাকিম অধিবেশনে বক্তব্য রাখার সময় বলেন, "অদ্ভুত পরিস্থিতি। আমি প্রাণপন চেষ্টা করেছি যাতে এই পরিস্থিতি তৈরি না হয়। আমি পৌর কমিশনারকেও বারবার ডেকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি, সরকার সরকারের কাজ করবে। আমরা আমাদের কাজ করব। ওঁকে বললাম যে, যখন সরকার বলেছে যে, সব পুরসভায় নির্ধারিত সময়মতো নির্বাচন হবে, আমরা আগে কোনও বোর্ড ভেঙে দেব না। তাহলে সেই পরিপ্রেক্ষিতে নর্মালেন্সি এনে মেয়র পরিষদকে কাজ করতে দেওয়া হোক। এবং মেয়র পরিষদের মিটিং হোক। হাউস হোক। হাউস হয়ে যে প্রস্তাবগুলো আসছে, সেগুলো আপনার কাছে পাঠানো হবে প্রসেসের জন্য। আমরা পলিসি-মেকার পলিসি করব। আপনি এক্সিকিউটিভ আপনি আপনার কাজ করবেন। কিন্তু, এটা আমার দুর্ভাগ্য যে আমি বোঝাতে পারিনি। বারবার করে চেষ্টা করার পরেও আজ হাউসটা খোলা হল না। এটা একটা সব নির্বাচিত যত প্রতিনিধি আছে, তাঁদের একটা চরম অপমান এবং নিদর্শন হয়ে রইল। ধরুন অ্যাসেম্বলি ডাকল, অ্যাসেম্বলি খোলা হল না। পার্লামেন্ট ডাকল, পার্লামেন্ট খোলা হল না। এটা একটা নিদর্শন হয়ে রইল। হট করে আমার ইচ্ছা হল হাউস বন্ধ করলাম, হাউস খুললাম, এটা এক্সিকিউটিভের কাজ নয়, এটা সম্পূর্ণ চেয়ারপার্সনের কাজ। সুতরাং, অ্যাক্ট অনুযায়ী. চেয়ারপার্সনকে যেমন চলতে হবে, মেয়রকে-এক্সিকিউটিভকে চলতে হবে।"
