হিন্দোল দে, কলকাতা : মত্ত অবস্থায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তায় পড়ে যাওয়া ২ প্রোমোটারকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার মাশুল! ডেলিভারি বয়কে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ। পলাতক অভিযুক্ত দুই প্রোমোটার। হরিদেবপুর থানায় থানায় অভিযোগ দায়ের। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আক্রান্ত ডেলিভারি বয়ের। পুলিশ জানিয়েছে FIR করে মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে। বেহালার সখের বাজারে ঘটেছে এই ঘটনা।
নিরুপম ভুঁই, আক্রান্ত ডেলিভারি বয় বলছেন, 'উনি এল, উনি পড়ে গেল, আমি হেল্প করতে গেলাম, কোনও কথা না শুনে আমাকে মারতে শুরু করে দিল। হাতে আংটি, বালা ছিল আমাকে এত মারধর করছিল যে আমার চোখ বন্ধ হয়ে গেছিল অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছিলাম। পরে একটু জ্ঞান আসতে দেখলাম যে, প্রচুর ব্লিডিং হচ্ছে।' আক্রান্ত যুবক আরও বলছেন, 'ওরা রোজই ড্রিংক করে ওরকম রাত্রে বাইক নিয়ে জোরে ঘোরাফেরা করে। প্রচুর মদ খেয়ে ছিল। নিজের ব্যালেন্স হারিয়ে পড়ে যায়। আমি হেল্প করতে যাই উঠে আমাকেই মারতে শুরু করে।'
খাস কলকাতায় ফের প্রোমোটার-দৌরাত্ম্য! সাহায্যকারী ডেলিভারি বয়কে মেরে মাথা ফাটিয়ে দিলেন ২ প্রোমোটার। এখনও অধরা এলাকারই বাসিন্দা অভিযুক্ত প্রোমোটার জয়দেব সর্দার ও সৌমেন দাস। গুরুতর আহত বছর ২১-এর অনলাইন বিপণীর ডেলিভারি বয় নিরুপম ভুঁই। শিউরে ওঠার মতো এই ছবি কলকাতা পুরসভার ১২৩ নম্বর ওয়ার্ডের সখেরবাজারের। হরিদেবপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ডেলিভারি বয়। পুলিশ জানিয়েছে, আক্রান্তের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত প্রোমোটার জয়দেব সর্দার ও সৌমেন দাসের নামে FIR করা হয়েছে। অভিযুক্তরা পলাতক, তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। আক্রান্তের কথায়, 'বাঁচার চেষ্টা করেছিলাম। হয়তো প্রাণেই মেরে দিচ্ছিল। তবু যে করে হোকে নিজেকে বাঁচিয়ে এসেছি। পুলিশ এসে অভিযোগ করেছি, এরাও কোনও পদক্ষেপ করছে না। ওরা বলছে যে, হয়ে যাবে হয়ে যাবে। কখন হয়ে যাবে, যদি আমাকে মেরে ফেলত তাহলে কী হত! ওরা বলছে মিউচুয়াল হয়ে গেছে। আমরা কোনও কথাই বলিনি ওদের সাথে এসে। ওঁর নামে কেস করেছি, উনি তো পরে আমাকেও করতে পারে বা আমাদের এখানে আরও ছেলে আছে কাউকে না কাউকে করতে পারে।'
ঘটনাটি ঘটে শনিবার রাত ১০.৩০ নাগাদ। আক্রান্ত ডেলিভারি বয়ের দাবি, কাজ শেষ করে সাইকেলে করে অনলাইন বিপণীর হাবের দিকে যাচ্ছিলেন।ভুবনমোহন রায় রোডে তিনি যখন ডানদিকে ঘুরছিলেন, তখন তাঁর সামনে দ্রুত গতিতে এসে উল্টে পড়েন এক বাইক আরোহী। ২ প্রোমোটারের মারে মাথা ফেটে গিয়েছে ড়েলিভারি বয়ের। মাথায় পড়েছে ৮টি সেলাই। অভিযুক্তরা গ্রেফতার না হওয়ায় আক্রান্ত যুবক ভুগছেন আতঙ্কে। আক্রান্ত যুবক বলছেন, 'আমার ডান দিকে ঢুকতে হবে, আমি অনেকটা দূর থেকে হাত দেখাই। উনি দেখছি, অনেক স্পিডে আসছে, স্পিড কমাচ্ছে না। আমার থেকে অনেকটা দূরে এসে পড়ে যায়। আমি সাইকেলটা এক হাতে ধরে অন্য হাত দিয়ে তুলতে যাই। কোনও কথা না শুনে উঠে আমাকেই মারতে শুরু করে। বন্ধুটা এসে, সেও আমাকে বাজে ভাবে মারতে শুরু করে।'