আবির দত্ত, কলকাতা : অবশেষে আনন্দপুরের খালে পঞ্চান্নগ্রামের নিখোঁজ তরুণীর দেহ উদ্ধার হল। আগেই খাল থেকে উদ্ধার হয়েছিল তরুণীর সঙ্গীর মৃতদেহ। গতকাল রাত থেকে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। এদিন সকালেও চলে। সেই তল্লাশিতে এর আগে যুবকের মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছিল। যে জায়গায় যুবকের দেহ উদ্ধার হয়েছে, তার কয়েকশো মিটার দূরে লোহার ব্রিজের কাছে কিছুক্ষণ আগে পাওয়া যায় যুবতীর মৃতদেহও। প্রাথমিকভাবে পুলিশ মনে করছে, নিখোঁজ তরুণীরই মৃতদেহ এটি। বেশকিছু সিসি টিভি ফুটেজ পুলিশ ইতিমধ্যে পেয়েছে। তা খতিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর সঙ্গে সঙ্গে বেশকিছু তথ্যও তারা জানতে পারছে। যেটা চাঞ্চল্যকর।  

স্কুটার চালানো শিখতে গিয়ে রহস্যজনক অন্তর্ধান হয় পঞ্চান্নগ্রামের তরুণীর। মারধর করে খালে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে সঙ্গী যুবকের বিরুদ্ধে। মাঝরাতে খালে ডুবুরি নামিয়ে চলে তল্লাশি। খালের ধার থেকে উদ্ধার হয়েছে স্কুটার ও মোবাইল ফোন। কয়েক ঘণ্টা খোঁজাখুঁজির পরেও বছর তেইশের তরুণীর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। স্থানীয়দের দাবি, কয়েকদিন ধরেই আনন্দপুরে চিনা মন্দির খালপাড় এলাকায় স্কুটার চালানো শিখছিলেন তরুণী। সঙ্গে থাকতেন পঞ্চান্নগ্রামেরই এক যুবক। অভিযোগ, গতকাল রাতে দু’জনের মধ্যে বচসা বাধে, ওই যুবক তরুণীকে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, তরুণীকে খালে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তারপরই খালে ডুবুরি নামানো হয়। ঘটনার পর থেকে যুবকেরও খোঁজ মিলছিল না। 

কয়েকদিন আগেই পরিবারের সদস্যরা তরুণীকে স্কুটারটি কিনে দেন। পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, যে যুবককে সঙ্গে নিয়ে স্কুটার চালানো শিখতেন তিনি, সেই যুবকের সঙ্গে তরুণীর সম্পর্ক ছিল বলে সম্ভাবনা রয়েছে (বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে)। সিসি টিভি ফুটেজ থেকে যেটা জানা যাচ্ছে, গতকাল এই ঘটনা ঘটার ঠিক ৪৫ মিনিট আগে রাস্তার ধারে তাঁদের মধ্যে বচসা বাধে, একপ্রকার হাতাহাতির মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। তারপর দৌড়ে ওই তরুণী খালের কিনারায় চলে আসেন। ওই যুবককেও পিছন পিছন আসতে দেখা যায়। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছেন, কেউ কি সেই সময় খালে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন ? নাকি রয়েছে অন্য কোনও রহস্য ? ওই যুবক এগিয়ে এলে দুজনেই জলে পড়ে যান। তারপরই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

যদিও, পুরো বিষয়টায় ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন তদন্তকারীরা। তার কারণ, তদন্তকারীরা বলছেন, বাইরে থেকে দেখে তাঁদের বাইরের অংশে কোনও আঘাত দেখা যায়নি। ময়নাতদন্ত হলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। জলে ডুবেই তাঁদের মৃত্যু হয়েছে কি না বিষয়টি ময়নাতদন্তের পর স্পষ্ট হবে। আপাতত, দুটি মৃতদেহই ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে আনন্দপুর থানার পুলিশ।