কলকাতা: তুমুল ঝড়ৃবৃষ্টির পর কলকাতায় রাজপথে ভাঙল বহু গাছ, বিপর্যস্ত যান চলাচল। ময়দান, প্রিন্সেপ ঘাট, সল্টলেক, টালা পার্ক, রফি আহমেদ কিদওয়াই রোড, কলকাতায় অন্তত ২৫টি জায়গায় গাছ পড়ে যান চলাচল ব্যাহত। সল্টলেকে গাড়ির উপর গাছ উপড়ে বিপত্তি তৈরি হয়েছে। রফি আহমেদ কিদোয়াই রোডে গাছ ভেঙে বিপত্তি সৃষ্টি হয়েছে। টালা পার্কে গাছ পড়ে ব্যাহত হয়েছে যান চলাচল। পাতিপুকুরে গাছ পড়ে ব্যাহত যান চলাচল। অজয়নগরে মেট্রোর সামনে জলমগ্ন রাস্তা। তবে রাস্তা থেকে সরানো হচ্ছে ভেঙে পড়া গাছ। গাছ সরাচ্ছে পুরসভার টিম ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।
আরও পড়ুন, কলকাতা বিমানবন্দরে জল থইথই রানওয়ে ! প্রায় ১ ঘণ্টা ব্যাহত উড়ান পরিষেবা
দুপুরেই নামল অন্ধকার। কলকাতা ও জেলায় জেলায় হল তুমুল ঝড় ও বৃষ্টি। আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ৮৮ কিলোমিটার। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টা দক্ষিণবঙ্গে বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি চলবে। শনিও রবিবার ঝোড়ো হাওয়া দিতে পারে ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে। সঙ্গে চলবে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি। স্বস্তির বৃষ্টির মধ্যেই কলকাতায় তাণ্ডব চালাল মাঝ জ্যৈষ্ঠের কালবৈশাখী। সেই সঙ্গে কলকাতা সহ জেলায় জেলায় হল মুষলঝারে বৃষ্টি, ঝডে উপড়ে পড়ল গাছ, লন্ডভন্ড হল শহর থেকে জেলা।
ব্য়হত হল বিমান ও ট্রেন পরিষেবা। আলিপুর আবহাওয়া দফতর থেকে শুক্রবার দুপুরে দেওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়, দুপুরেই কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ প্রবল ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে বলা হয়, ঘণ্টায় ৭০–৮০ কিমি বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। কোথাও কোথাও হতে পারে অতিভারী বৃষ্টিপাত। লাল সতর্কতা জারি করা হয় কলকাতায়। পূর্বাভাস মতো দুপুর ৩ টে নাগাদ আছড়ে পড়ে কালবৈশাখী। আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার। দুপুর ২টো ৪৭-এ ঝড়ের সর্বোচ্চ বেগ স্থায়ী হয় ২ মিনিট। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টা দক্ষিণবঙ্গে বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি চলবে। শনিবার ও রবিবার ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। বেশি বৃষ্টি হতে পারে পশ্চিমের জেলাগুলিতে। রবিবার থেকে কমবে বৃষ্টির পরিমাণ। আবহবিদরা জানিয়েছেন, ঝড়বৃষ্টির কারণে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা কমবে। আগামী কয়েক দিনে দুই থেকে তিন ডিগ্রি কমতে পারে তাপমাত্রা। উত্তরবঙ্গে বেশ কিছু দিন ধরে ভারী বৃষ্টি চলেছে। তবে দার্জিলিং, কালিম্পং-সহ পাহাড়ি জেলাগুলিতে ঝড়বৃষ্টির দাপট আগের চেয়ে কমেছে।
