কলকাতা, তিলজলা : তিলজলায় ঘটেছে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। বেআইনি বাড়ির নীচে ছিল বেআইনি কারখানা। সেখানেই বীভৎস আগুন লেগেছিল মৃত্যু হয়েছে ২ জনের। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩ জন। তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে খবর। এই ঘটনায় তৎপর রাজ্য সরকার এবং পুরসভা। ইতিমধ্যে কারখানার মালিক এবং ম্যানেজারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে, বুধবার বিকেলে পুরসভার তরফে বুলডোজার এনে ওই কারখানা এবং সংলগ্ন ২টি বাড়ি ভেঙে ফেলার কাজ শুরু করেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও জানিয়েছেন, কোনও ধরনের বেআইনি নির্মাণকে রেয়াত করা হবে না।

Continues below advertisement

আপাতত পুরসভা কলকাতার বিভিন্ন বেআইনি নির্মাণ, বাড়ি এবং কারখানা খুঁজে বের করে তালিকা তৈরি করবে। তারপর নোটিস পাঠানো হবে। প্রয়োজনে বিদ্যুতের এবং জলের লাইন কেটে দেওয়া হবে। সঠিক অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা, অগ্নি সুরক্ষা মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দরকারে ওইসব বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলা হবে। তবে প্রথমেই ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেবে না সরকার। বরং সরকার, পুরসভা, দমকল মিলিতভাবে সঠিক সুরক্ষার ব্যবস্থার করবে এইসব নির্মাণগুলিতে। প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। 

Continues below advertisement

এই প্রসঙ্গে কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে বলেছেন, 'কলকাতা পুরসভার যা যা নিয়ম আছে, সেই মতোই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকার যেমন নির্দেশ দেবে, তেমন ভাবেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওই এলাকা ও কলকাতায় যেসব বেআইনি নির্মাণ আছে, সেখানে আবার নতুন করে নোটিস পাঠানো হবে, যেমনটা মন্ত্রী (পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল) বলেছেন। আমরা আগেও নোটিস পাঠিয়েছি। সেগুলি আরেকবার নতুন করে দেখা হবে যে কোথায় কী নোটিস পাঠানো হয়েছে, কী কী ব্যবস্থা নিতে হবে। কলকাতায় কোনও বেআইনি নির্মাণের অনুমোদন আমরা দেব না। এই বাড়ি নির্মাণের কোনও পরিকল্পনা আমরা আমাদের রেকর্ডে পাইনি।' 

তিলজলা অগ্নিকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য ! গেট বন্ধ থাকায় আটকে পড়ে মৃত্যু !

 ন্যদিকে, পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল তিলজলার অবৈধ নির্মাণ প্রসঙ্গে বলেছেন, 'অবৈধ নির্মাণ আমরা রাখতে দেব না। সময় দেব। অবৈধ নির্মাণকে বৈধ করার জন্য যা যা করা দরকার... আমায় ডিপার্টমেন্ট থেকে বলা হয়েছিল সিঁড়ি নেই। পিছন দিক থেকে লোহার সিঁড়ি বানিয়ে দেওয়া যায়। সবরকমভাবে বিল্ডিংটাকে বাঁচানোর চেষ্টা করব। সেটা যদি একেবারেই সম্ভব না হয়, তাহলে আশপাশের মানুষকে বিপদে ফেলে আমরা এই ধরনের কাজকর্ম চলতে দেব না।'