আবীর দত্ত, কলকাতা: তপসিয়ায় ২ গোষ্ঠীর সংঘর্ষে ধুন্ধুমার ! ঘটনাস্থলে বোমাবাজিরও অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় তিন আহত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। মারধরের ঘটনায় যার মধ্যে একজন এক শিক্ষিকারও মাথা ফাটে।  মূলত দুই গোষ্ঠীর মধ্যে গন্ডগোল ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে তপসিয়া। ছোড়া হল পাথর, এমনকী এলাকায় বোমাবাজির অভিযোগ পর্যন্ত করলেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের দাবি, গোটা ঘটনার নেপথ্য়ে রয়েছে এলাকা দখলের লড়াই।কলকাতা পুরসভার ৫৯ নম্বর ওয়ার্ড। তপসিয়ার দারাপাড়া এলাকা। রবিবার সন্ধেয় এখানেই ২ পক্ষের মধ্যে শুরু হয় সংঘর্ষ। অভিযোগ, বোমার আঘাতে আহত হন ৩ জন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন একজন মহিলাও। কলকাতা পুরসভার ৫৯ নম্বর ওয়ার্ডের আহত বাসিন্দা জয়নাব খাতুন বলেন, গেট বন্ধ করতে বেরিয়েছিলাম, হঠাৎ চোখের সামনে পড়ল, পুরো অন্ধকার হয়ে গেল। কিছু দেখতে পাচ্ছিলাম না। ঘরের ভিতরে যেই এসেছি, চারিদিক রক্তাক্ত হয়ে গেল। 

আরও পড়ুন, 'মেন্টাল হেলথের নাম করে, পরোক্ষভাবে NRC এর নামে একটা সার্ভে করছে...', কল্যাণী এইমসকে নিশানা মুখ্যমন্ত্রীর

প্রশ্ন : বোমা থেকে হয়েছে? আহত বাসিন্দা জয়নাব খাতুন: হ্যাঁ। প্রশ্ন : যারা করেছে তারা সবাই এলাকার? আহত বাসিন্দা জয়নাব খাতুন: হ্যাঁ। প্রশ্ন : কোন পার্টি করে? আহত বাসিন্দা জয়নাব খাতুন: সব টিএমসি। 

এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, এই তাণ্ডবে জড়িতদের সঙ্গে তৃণমূলের যোগ রয়েছে। কলকাতা পুরসভার ৫৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বলেন, ঝামেলা কী নিয়ে হয়েছে সেটা আমরা কেউ জানি না। পার্টির লোকের ছেলে। তৃণমূল। স্থানীয়রা যখন তৃণমূলের দিকে আঙুল তুলছে, তখন স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর আবার বল ঠেলেছেন পুলিশের কোর্টে। কলকাতা পুরসভার ৫৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর জলি বোস বলেন , দারাপাড়া এমনই একটা অঞ্চল, ওখানে সবসময় আমাকে ঢুকতে দেওয়া হয় না। ওই এলাকায় আমি যেতে পারি না, আমার একটা ফোটো লাগাতে পারবে না কেউ। আমি থানায় অনেকবার জানিয়েছি। বড়বাবুও সব জানেন। কারা করে, কারা করেছে। 

কার্যত একই সুর শোনা গেছে তৃণমূল বিধায়কের গলাতেও। সেই সঙ্গে তিনিও পুলিশের একাংশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এন্টালির তৃণমূল বিধায়ক  স্বর্ণকমল সাহা বলেন, আমি আমার MLA ফান্ড থেকে ওইখানে একটা বড় কাজ করাচ্ছি। এলাকায় কাজ করতে হবে। ও (কাউন্সিলর) তো কাজ করতে যাবে, ওকে অ্যালাও করবে না। ওকে বিভিন্ন ভাবে উত্যক্ত করবে। আমি চাইছি ওখানে একটা ভাল, স্ট্রং ওসি আসুক। তাহলে এলাকা ওই জায়গাটা শান্ত হবে। কোথাও রেড হলে তার আগে খবর পেয়ে যায়। ধরতে পারে না। প্রবলেম আছে পুলিশেরও। পুলিশের তরফে বক্তব্য, ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে ২৩ জনকে। পুলিশ যখন এলাকায় গেছিল তখন পুলিশকেও লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়। কাউকে রেয়াত করা হবে না। এলাকায় বোমাবাজির অভিযোগ রয়েছে। সিসি ক্যামেরা ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।