গুজরাত থেকে এসে বাংলায় চুরির জাল ! তাও আবার সাক্ষাৎ দেবদেবীর বেশে। আপনি যাঁদের গরিব-বহুরূপী ভাবছেন, ধরতেই পারবেন না তারা কখন আপনার পকেট ফাঁকা করে দিয়ে চলে যাবেন। কলকাতা পুলিশ পোস্ট করে জানাল এই সব বহুরূপীদের কুকীর্তির কথা। কখনও কালী, কখনও শিব সেজে এরা দাঁড়াত শহরের বিভিন্ন ট্রাফিক সিগন্যাল বা জনবহুল স্থানে। ভিক্ষে করার নাম করে কীভাবে কেটে দিত পকেট, শুনে তাজ্জব বনে যাবেন।  কলকাতা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, এরা দেবদেবীর বেশেই চুরির জাল বিছাতো। এমন চার জনের দল এখন পুলিশের হেফাজতে। কলকাতার পুলিশের পোস্ট অনুসারে, 'ধরুন আপনি ট্র‍্যাফিক সিগনালে বা অন্য কোথাও অপেক্ষা করছেন, হয়তো রাস্তা পেরোবেন। আপনার দিকে এগিয়ে এলেন মা কালী, শিবঠাকুর এবং আরও অন্যান্য দেব দেবী। চমকে যাবেন না, এরা ঠাকুর-দেবতার বেশধারী মানুষ মাত্র। উদ্দেশ্য, আপনার কাছে টাকা চাওয়া। অন্তত এই শহরে খুব অপরিচিত দৃশ্য নয়। নানা কথার পর ধর্মীয় বিশ্বাসের বশে আপনি হয়তো কিছু টাকা দিয়েও দিলেন। কিন্তু 'দেবদেবীর' দল উধাও হয়ে যাওয়ার পর আপনি দেখলেন, আপনার মানিব্যাগ বা মোবাইলও উধাও।'

Continues below advertisement

কীভাবে চুরি করত এরা?

কলকাতা পুলিশের কথায় , এরা অভাবনীয় দক্ষতায় মানুষের পকেট গড়ের মাঠ করে দিত। কিছুদিন আগে,  জোড়াসাঁকো থানায় দায়ের হয় একটি অভিযোগ। তার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। এই ভেকধারী চারজন আপাতত কলকাতা পুলিশের জিম্মায়। চারজনকেই আটক করা হয় হেস্টিংস এলাকায়।

Continues below advertisement

পুলিশ সূত্রে খবর,  চার জনই গুজরাতের আনন্দ জেলার বাসিন্দা। এদের নাম ,  অনিল রামজু সালাত, ধীরু কালোভাই সালাত, সমীরভাই সালাত, এবং রাজু কুমার। শুধু কলকাতায় শুধু নয়, অন্যান্য শহরেও এই একই 'ব্যবসা' চালাচ্ছিল এই চক্র।

কীভাবে ধরা পড়ল এরা?                         

পুলিশ সূত্রে খবর,  কিছুদিন আগে গিরীশ পার্ক থানায় দায়ের মোবাইল চুরির মামলায় পার্ক স্ট্রিট এলাকা থেকে গ্রেফতার হয় মহম্মদ শাহনওয়াজ এবং মহম্মদ সমীর নামে দুই জন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন কিছু সূত্রের খবর পাওয়া যায় । এর মাধ্যমে আমরা পৌঁছে যাই ওই চারজন পর্যন্ত।  তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। এই ব়্যাকেটের বিস্তার কতটা, খতিয়ে দেখছে পুলিশ।