সৌভিক মজুমদার, কলকাতা : দিকে দিকে পচা মাংস উদ্ধার। মেয়াদউত্তীর্ণ পনির। বাসি মাছ। ছত্রাক পড়া খাবার। বিষাক্ত রং মেশানো মিষ্টি । এতে যদি ভয়াবহ স্বাস্থ্যহানি হয়, তাহলে কি সাধারণ মানুষের চুপচাপ মেনে নেওয়া ছাড়া গতি নেই ?  নেই কি আইনি উপায়ে ক্ষতিপূরণ জোগাড়ের সুযোগ? কী বলছে আইন? আইনজীবী আশিস চৌধুরী জানাচ্ছেন, ২০০৬ এ  যে ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড অ্যাক্ট হয়েছে, সেখানে পরিষ্কারভাবে বলা আছে যদি দেখা যায় যে  ভেজাল কোনো খাবার বা কোনো পচা খাবার যদি কোনো জায়গায় কাউকে দেওয়া হয়, সেক্ষেত্রে কিন্তু এক লক্ষ টাকা থেকে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা অবধি জরিমানা পেতে পারেন । সেই সঙ্গে ওই অপরাধে ছয় মাস কারাদণ্ডেরও ব্যবস্থা আছে । এছাড়াও আইনে আরেকটি পথ আছে। কনজিউমার প্রোটেকশন অ্যাক্ট- অনুসারে, যারা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে , তারা সরাসরি সেন্ট্রাল কনজিউমার হেল্পলাইন-এ অভিযোগ জানাতে পারেন । আইনজীবী অরিন্দম দাস জানালেন, ' আমরা জানি নর্মাল এফআইআর করা যেতে পারে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুসারে, কেস করা যেতে পারে । ভারতে এই অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি , যদি কেউ ফুড পয়জনিংয়ে মারা যায় তাহলে অপরাধীর সাত বছর অথবা যাবজ্জীবন কারাবাস হতে পারে। এছাড়াও যদি বড়রকমের ক্ষতিগ্রস্ত হন কেউ, তাহলে ছয় বছরের জেল হতে পারে। এছাড়া, কাউকে খারাপ হয়ে যাওয়া খাবার খাওয়ালে যদি তাঁর মৃত্যু হয়, তাহলে জরিমানা হতে পারে দশ লক্ষ টাকা। গুরুতর  অসুস্থ হয়ে পড়লে, তার জন্য অপরাধীর ছয় লক্ষ টাকা জরিমানা হতে পারে। ছোটখাটো অসুস্থতা বা ক্ষতি হলে, তিন লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে ।

Continues below advertisement

পেটে যাচ্ছে বিষাক্ত খাবার । অজান্তেই শরীরে বাসা বাঁধছে না তো রোগ ব্যাধি? এই আশঙ্কা থেকেই যায়। এই অভিযানে যে বিষাক্ত এলিমেন্টগুলোর নাম পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো নিয়ে ডাক্তারবাবুদের মতামত খুব স্পষ্ট। চিকিৎসকদের মতে, এসব জিনিস পেটে গেলে ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে। ভারতে ইদানিং ক্যান্সারের প্রকোপ অত্যন্ত উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে, বেড়েই চলেছে।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের সরকারি তথ্য বলছে, ২০২১ সালে, ভারতে ক্যান্সার-আক্রান্তের সংখ্যা ছিল প্রায় চোদ্দ লক্ষ। ২০২৫ এ, সেটা লাফিয়ে বেড়েছে দশ শতাংশ। পেটের ক্যান্সার তো প্রায় মহামারীর চেহারা নিচ্ছে । ২০২৪  সালে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চের গবেষণা বলছে, ভারতীয়দের ৫৬ শতাংশ শারীরিক অসুস্থতার মূলে রয়েছে অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যেস। 

Continues below advertisement