কলকাতা: পায়ে পায়ে এসে গিয়েছে, ২০২৬। কিন্তু বছরের দ্বিতীয় দিনেও শীতের প্রভাব মোটেই কমেনি রাজ্য জুড়ে। তবে আজ বাড়ল কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। শীতের দাপট থাকলেও, আজ বাড়ল কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। গতকালের তুলনায় দেড় ডিগ্রি বেড়ে আজ শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে ১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। গতকাল কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
অন্যদিকে, তীব্র শীতের ছবি উত্তর ভারতে। শীতে কাঁপছে উত্তর ভারত। দিল্লিতে পারদ তলানিতে। ঘন কুয়াশায় মুখ ঢেকেছে রাজধানীর বিভিন্ন অংশ। একই ছবি অযোধ্যায়। রামনগরীতে দিনের বেশিরভাগ জুড়ে হিমেল হাওয়া। দুপুর পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢেকে রাস্তাঘাট। পবিত্র নগরী বারাণসীতেও সূর্যের দেখা মেলা ভার। ঘন কুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডা বাবা বিশ্বনাথের ডেরায় এখন নিত্যদিনের ছবি। মধ্য ভারতের গ্বালিয়রে ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় কাঁপছেন বাসিন্দারা। অন্যদিকে, শীতে কাঁপছে জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন অংশ। বরফে ঢাকা পড়েছে পুঞ্চ। তুষারপাত হচ্ছে কাশ্মীরের অন্যান্য জায়গাতেও। দূরে পীরপাঞ্জাল পর্বতশ্রেণিও তুষারশুভ্র।
১ জানুয়ারি, অর্থাৎ গতকালও ঠান্ডা অনুভূত হয়েছে রাজ্যের সর্বত্র। গত চব্বিশ ঘণ্টায় শুষ্ক আবহাওয়া ছিল বাংলায়। তাপমাত্রা ২-৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম ছিল রাতে। প্রতিদিনই সকালের দিকে থাকে কুয়াশা। কলকাতা বিমানবন্দরেও কুয়াশা ছিল। আগামী সাতদিনে দক্ষিণবঙ্গে এইরকমই আবহাওয়া থাকবে বলে আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস। তবে উত্তরবঙ্গে দুই তিনদিন বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। পর্যটকদের জন্য রয়েছে সুখবর। তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে দার্জিলিংয়ের উঁচু জায়গায়। পশ্চিম ও পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম, মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, উত্তর ও চব্বিশ পরগনায় ঘন কুয়াশা থাকবে। বাকি জেলায় হালকা কুয়াশা থাকবে বলে পূর্বাভাস। আগামী ২৪ ঘণ্টায় উত্তরবঙ্গেও হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা থাকবে। ন্যূনতম তাপমাত্রা আগামী কয়েক দিনে রাতে ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়বে। উত্তর-পশ্চিম দিকে পশ্চিমী ঝঞ্ঝার কারণে তাপমাত্রায় সামান্য হেরফের হবে বলে অনুমান আবহবিদদের।
তবে শহর জুড়ে শীতের আমেজ চেটেপুটে উপভোগ করছে বাঙালি। বছরের প্রথমদিনই সকাল থেকেই ফেস্টিভ মুডে ছিল বাংলা। কলকাতা থেকে জেলা সর্বত্র আজ উৎসবের মেজাজ। পর্যটনস্থলে পর্যটকদের ভিড়। ঠান্ডার দাপটে সকাল সকাল আলিপুর চিড়িয়াখানায় পর্যটকদের ভিড়। খুশি কচি কাচারা। নিক্কো পার্কে সকাল থেকে লম্বা লাইন টিকিট কাউন্টারে। ভিড় সায়েন্স সিটি-সহ সমস্ত দর্শনীয় জায়গায়।