দমদম : "একসঙ্গে একটা গ্যাং ঢুকে যদি চুরি করে থাকে, একটা মানুষকেও তো খুন করে ফেলতে পারতো।" দমদমে একের পর এক বাড়িতে চুরি ও চুরির চেষ্টার ঘটনায় এভাবেই আতঙ্ক প্রকাশ করলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকার বাসিন্দা স্বপন দাস বলেন, "আমি এখানে দীর্ঘ ৪২-৪৩ বছর আছি। এরকম ঘটনা কোনও দিন ঘটেনি। কাল রাতে যে ঘটনাটা ঘটেছে সেটা খুবই দুঃখজনক, বেদনাদায়ক। সবথেকে বড় কথা হচ্ছে, নিরাপত্তার অভাব বোধ করছি আমরা। একসঙ্গে একটা গ্যাং ঢুকে যদি চুরি করে থাকে, একটা মানুষকেও তো খুন করে ফেলতে পারতো।" তাঁর সংযোজন, "মানুষের জীবনের দাম আছে। আমরা নিরাপত্তার অভাব বোধ করছি। আমরা প্রশাসনের কাছে আবেদন করব, এখানে পুলিশ পাহারা বাড়ানো হোক।"
নেহা বিশ্বাস নামে স্থানীয় এক মহিলা বলেন, "আমরা সত্যি ভীষণ ভয়ে আছি। আগে কোনও দিনও এরকম চুরির সমস্যা ছিল না। হঠাৎ করে এরকম চুরির সমস্যা দেখা দিয়েছে। আমাদের বাড়িতে আমরা শুধু মেয়েরা থাকি। সত্যি কোনও নিরাপত্তা পাচ্ছি না।"
কী ঘটনা ?
দমদম ক্যান্টনমেন্টে ডাকাতির কিনারা হওয়ার আগেই ফের লুঠের ঘটনা ঘটল দমদমের বিবেকানন্দ পল্লি এলাকায়। দক্ষিণ দমদম পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের ঘটনা। গৃহকর্ত্রীর জামাই রাতে কাজে বেরিয়ে যান। গৃহকর্ত্রী ও তাঁর মেয়ে অন্য ঘরে শুয়েছিলেন। অভিযোগ, মেয়ের ঘরের তালা ভেঙে সোনার গয়না লুঠ করে পালায় দুষ্কৃতীরা। আরও ৩টি বাড়িতে তালা ভাঙার চেষ্টা হয়।একটি বাড়িতে তালা ভাঙতে না পেরে বাইরে থেকে ছিটকিনি লাগিয়ে দুষ্কৃতীরা পালায়। আরেকটি বাড়িতে মই লাগিয়ে ছাদ দিয়ে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় দুষ্কৃতীরা। তৃতীয় বাড়িতে ছিটকিনি ভেঙে ঢুকে ২টি মানি ব্যাগ নিয়ে তারা চম্পট দেয়। একের পর এক চুরি-ডাকাতির ঘটনায় আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা। CC ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখছে দমদম থানার পুলিশ।
আগেও...
অসুস্থ অসহায় বৃদ্ধ দম্পতি! ফের তাদের টার্গেট করে দুষ্কৃতীরা। সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের পর দিনকয়েক আগে একই ঘটনা ঘটে দমদম পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নলতা স্কুল রোডে। এখানে দোতলা বাড়িতে থাকেন শয্যাশায়ী শঙ্কর মজুমদার ও তাঁর স্ত্রী পুতুল। ছেলে চাকরি সূত্রে ভিনরাজ্যে।
দিনকয়েক আগে সেখানে চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। সিসি ক্যামেরার সামনে দিয়ে মুখ বাধা অবস্থায়, মাথায় হেলমেট পরে এক এক করে সাতজন দুষ্কৃতী রাস্তা দিয়ে ঢুকে যায়। তারপর জানালার গ্রিল কেটে ওপরে উঠে বৃদ্ধ দম্পতির ঘরে ঢুকে লুঠ করে পালায় দুষ্কৃতীরা।
বাড়ির একতলায় দু'জন পেয়িং গেস্ট থাকেন। সূত্রের খবর, তাঁদের মধ্যে রবিবার রাতে একজন ছিলেন না। আর তাঁর ঘরের জানালার গ্রিল কেটেই একে একে ভিতরে ঢোকে সাত দুষ্কৃতী। আক্রান্ত বৃদ্ধার অভিযোগ, ওপরের তলায় উঠে তাঁর গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে চুপ করে থাকতে বলে দুষ্কৃতীরা। তারপরই শুরু হয় অবাধে লুঠ।
বুধবার রাতে ঠিক একই কায়দায় এক প্রৌঢ়াকে অস্ত্র দেখিয়ে লুঠের ঘটনা ঘটে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের।
একই রকম ঘটনা ঘটে রিজেন্ট পার্কের ম্যুর অ্যাভিনিউতেও। বিডন স্ট্রিট, দমদম ক্যান্টনমেন্টের পর রিজেন্ট পার্কের ম্যুর অ্যাভিনিউ। ফের কলকাতার বুকে, ভর সন্ধেয় বাড়িতে ঢুকে লুঠপাট চালায় দুষ্কৃতীরা! থানা থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে, গৃহকর্ত্রীর গলায় ছুরি ঠেকিয়ে রুদ্ধশ্বাস অপারেশন চালানো হয়!ওই বাড়ির দোতলায় থাকেন পিকলু বিশ্বাস, তাঁর স্ত্রী সোনালি ও তাঁদের ছেলে। সোমবার ভরসন্ধেয়, একেবারে ফিল্মি কায়দায়, ফ্ল্যাটে লুঠপাট চালানো হয় বলে অভিযোগ।