সুকান্ত মুখোপাধ্যায়, কলকাতা : ভোর থেকে বেলা পর্যন্ত ঘন কুয়াশার দাপট। সূর্যের দেখা নেই। তিরতির করে ধেয়ে আসা ঠান্ডা হাওয়া। মঙ্গলবারের পর বুধবারেও শীতে একেবারে জবুথবু দশা কলকাতার।  রাজ্যজুড়ে হাড় কাঁপানো শীতের কামড় জারি রয়েছে। আজও কলকাতায় ১০ ডিগ্রির ঘরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম। গতকাল কলকাতার তাপমাত্রা নেমেছিল ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। খুব সামান্য বাড়লেও , ভোর থেকেই হাড় কাঁপাচ্ছে শীত। 

Continues below advertisement

আজ কোথায় কোমন তাপমাত্রা ?               

মঙ্গলবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধের সকাল থেকেই কুয়াশাচ্ছন্ন হয়ে রয়েছে কলকাতা। বেলা পর্যন্ত কুয়াশা থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।  বীরভূম,  পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া, মুর্শিদাবাদের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নীচে থাকবে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।        

Continues below advertisement

কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম থাকবে। উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় ঘন কুয়াশার সতর্কবার্তা রয়েছে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ারের বেশ কিছু জায়গায় দৃশ্যমানতা ৫০ মিটারে নেমে আসতে পারে।  

শেষ কবে এমন শীত ?

২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তার আগে, ২০০৩ সালের ২২ জানুয়ারি কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।  আর মঙ্গলবার ও বুধবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে কার্যত দশের ঘরে, যা ঠকঠকিয়ে দিয়েছে শহরবাসীকে। ১৮৯৯ সালের ২০ জানুয়ারি কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল ৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মহানগরে সবচেয়ে কম সর্বনিম্ন তাপমাত্রার সেটাই এখনও পর্যন্ত সর্বকালীন রেকর্ড। 

কলকাতায় সেভাবে শীতের দেখা আজকাল আর মেলে না। গত কয়েক বছরে অনেকের মুখে বারবার উঠে এসেছে এই আক্ষেপ।  আর এবার আর সেই আক্ষেপ রইল না। বরং এই শীতের এই অচেনা ঝোড়ো ইনিংস দেখে তাজ্জব পশ্চিমবঙ্গবাসী। 

অন্যদিকে উত্তর ভারতেও অব্যাহত শৈত্যপ্রবাহ। কুয়াশার চাদরে ঢেকে দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ ও পঞ্জাবের বড় অংশ। অন্যদিকে বরফে ঢাকা পড়েছে ভূস্বর্গ। জম্মু কাশ্মীরের পুঞ্চে জেলা জুড়ে তুষারপাত হয়েছে । বরফে ঢেকে গিয়েছে রাস্তা-ঘাট। কিছুটা ব্যাহত হয়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। পুঞ্চের কোনও কোনও জায়গায় ৪-৫ ফুট পুরু বরফের আস্তরণ তৈরি হয়েছে।