কলকাতা: কৃষ্ণনগরে পুলিশ সুপারের অফিসের খুব কাছে দিনেদুপুরে খুন হয়ে গিয়েছেন কলেজ ছাত্রী। বাড়িতে ঢুকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে খুন করা হয় তরুণীকে। ছাত্রীর মায়ের দাবি, দেখে ফেলায়, তাঁকেও খুনের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু গুলি আটকে যাওয়ায় কোনওক্রমে প্রাণে রক্ষা পান তিনি। স্কুলের সহপাঠিনীকে গুলি করে খুন করার পর কোথায় গা ঢাকা দিল ১৯ বছরের তরুণ? হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ।
নদিয়ার কৃষ্ণনগরে, পুলিশ সুপারের অফিস থেকে একদম কাছে, দিনে দুপুরে নিজের বাড়িতে খুন হয়ে গেলেন এক কলেজ ছাত্রী। অভিযুক্তের নাম দেশরাজ সিং, বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার জেঠিয়া থানার ধরমপুর। দুজনে একইসঙ্গে স্কুলে পড়ত। বাড়িতে ঢুকে, সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় উঠে তরুণীকে পয়েন্ট ব্ল্য়াঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করা হয়। তরুণীর মা সামনে চলে আসায়, তাঁকেও খুনের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। কিন্তু গুলি আটকে যাওয়ায়, প্রাণে বাঁচেন তিনি। কৃষ্ণনগর উইমেনস কলেজের উল্টোদিকে, মানিকপাড়ায় থাকতেন, কলেজছাত্রী, ঈশিতা মণ্ডল। ২০২৩-এ উচ্চমাধ্য়মিক পাস করেন ঈশিতা। ডাক্তারির প্রবেশিকার জন্য় পরের বছর কলেজে ভর্তি হননি। এ বছরই ভর্তি হয়েছিলেন ভিক্টোরিয়া কলেজে কিন্তু, স্বপ্ন শুরুর আগেই সব শেষ।
পুলিশ সূত্রে খবর, কৃষ্ণনগরে কলেজ ছাত্রীকে খুন করার পর উত্তর ২৪ পরগনার জেটিয়া থানা এলাকার ধরমপুরে বন্ধুদের ফোন করে আশ্রয় চেয়েছিল অভিযুক্ত দেশরাজ সিং। বন্ধুরা সব শুনে হতবাক হয়ে যায়। জোটেনি আশ্রয়। স্কুলের সহপাঠিনীকে গুলি করে খুন করার পর কোথায় গা ঢাকা দিল ১৯ বছরের তরুণ? হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ২০২২-’২৩ সালে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয় দেশরাজকে। পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার পর ছোটখাট কাজ করত ওই তরুণ। কিন্তু কী করে আগ্নেয়াস্ত্র জোগাড় করল? তবে কি অপরাধ জগতে পা বাড়িয়েছিল দেশরাজ? অভিযুক্তের বাবা রাজস্থানের জয়সলমেরে কর্মরত। জেটিয়ার ধরমপুরে মা-বোনের সঙ্গে থাকত ওই তরুণ। ঘটনার সময় উত্তরপ্রদেশের গোরখপুরে দেশের বাড়িতে ছিলেন দেশরাজের মা-বোন। ছেলের কীর্তির কথা জানতেন না বলে পুলিশের কাছে দাবি করেছেন দেশরাজের বাবা।
কী ঘটেছিল? সোমবার দুপুর, ঘড়ির কাঁটায় তখন সবে ২ টো বেজেছে ছোট ছেলেকে স্কুল থেকে আনতে গেছিলেন মা। বাড়িতে একাই ছিলেন তরুণী। অভিযোগ, সেই সময় সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় উঠে, ঈশিতাকে পয়েন্ট ব্ল্য়াঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে খুন করে দেবরাজ সিং। তরুণীর মায়ের দাবি, বাড়ি ফেরার পর, দোতলায় ঘরের বাইরে যুবককে দেখতে পান তিনি। কে, কোথা থেকে এসেছে, এই প্রশ্ন করলে, সেই যুবক হিন্দিতে কথা বলে... এরপর তাঁকেও লক্ষ্য় করেও গুলি চালাতে যায়, কিন্তু গুলি আটকে যাওয়ায় প্রাণে বেঁচে যান তিনি। শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে তরুণীকে মৃত ঘোষণা করা হয়।