অর্ণব মুখোপাধ্যায়, হুগলি : শুধু প্রয়াগ নয়, কুম্ভমেলা বাংলাতেও। চতুর্থবারের জন্য হুগলির ত্রিবেণীতে আয়োজিত হতে চলেছে কুম্ভমেলা। গত বছর এই কুম্ভ মেলার আয়োজন নিয়ে জলঘোলা হয়েছিল বিস্তর। অনুমতি নিয়ে হেছিল টানাপোড়েন। তবে বার মেলা হচ্ছেই। হুগলির ত্রিবেণীর সপ্তর্ষি ঘাটে তারই ভূমিপুজো পর্ব অনুষ্ঠিত হল। প্রায় ১০০ জন সাধুর উপস্থিতিতে হল মঙ্গল অনুষ্ঠান।
কবে মেলা
হুগলির ত্রিবেণী সঙ্গম আধ্যাত্মিক পরিমণ্ডলের অন্যতম কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত। কথিত আছে, সাতশো বছরেরও বেশি সময় আগে হুগলির ত্রিবেণীতে কুম্ভস্নান উপলক্ষ্যে বিশাল জমায়েত হত। একসময় হুগলির সপ্তগ্রাম ছিল ভারতের একটি অন্যতম বাণিজ্যকেন্দ্র। এই বন্দরে বহু বণিকের যাতায়ার লেগে থাকত। ভারতের অর্থনৈতিক মানচিত্রেও এই জায়গার বিশেষ গুরুত্ব ছিল। এই সপ্তগ্রামেরই অন্তর্গত ত্রিবেণী ছিল হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে আধ্যাত্মিক সাধনার জায়গা। এরাজ্যের পাশাপাশি ভিন রাজ্য থেকেও আসতেন সাধুসন্তরা। গত কয়েক বছর ধরে সেই ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে সচেষ্ট হয়েছে বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন। ১১, ১২ এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি ত্রিবেণীতে কুম্ভমেলার আয়োজন করা হয়েছে। ১২ তারিখ মাঘ সংক্রান্তিতে রয়েছে মহাস্নানের আয়োজন।
মেলার ইতিহাস
২০২২ সাল থেকে মাঘ সংক্রান্তি উপলক্ষে ফের এই মেলা শুরু হয়। ২ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধু সন্ত সেখানে ভিড় জমান। প্রধানমন্ত্রী মন কী বাতেও এই মেলার প্রশংসা করেছিলেন। ২০২২ সাল থেকে মাঘ সংক্রান্তি উপলক্ষে ফের এই মেলা শুরু হয়। ২ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধু সন্ত সেখানে ভিড় জমান। এবারও তেমন দৃশ্য দেখার অপেক্ষায় বাংলা।
মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেব ও ত্রিবেণী
কথিত আছে, স্বয়ং মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেব ত্রিবেণীর ঘাটে পদার্পণ করেছিলেন । ত্রিবেণীর কালীতলা নামক স্থানে সনাতন ধর্মের দেবী মা কালীর একটি প্রাচীন মন্দির রয়েছে । বহু ভক্তের সমাবেশ ঘটে এই মন্দিরে । আয়োজক দের আশা, এবার মহাকুম্ভের বছর। তাই বহু ভক্তই কুম্ভস্নানের জন্য এখানে আসবেন। ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে সেই বিরাট জমায়েতের কথা মাথায় রেখেই। বহু সাধুসন্ত ও সাধারণ পুণ্যার্থী এখানে আসতে পারেন, আশা উদ্যোক্তাদের। ত্রিবেণী সঙ্গমে তাই প্রস্তুতি তুঙ্গে ।