কলকাতা: সোনারপুরে জনরোষের মুখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। গতকাল, শনিবার তিনি সোনারপুরে গেলে তাঁকে ঘিরে ধরেন স্থানীয়রা। ভূরি ভূরি অভিযোগ ধেয়ে আসে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। অভিষেককে লক্ষ্য করে ছোড়া হয় ডিম। দেখানো হয় জুতো, ঝাঁটা। সোনারপুরে যেতেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে আছড়ে পড়ল জনরোষ। রাস্তা, ত্রাণের মতো পরিষেবা না পাওয়া থেকে নারী নিরাপত্তা ইস্যুতে ক্ষোভ উগরে দিলেন বিক্ষোভকারীরা। কেউ তুললেন দীর্ঘদিন ধরে ভোট দিতে না দেওয়ার অভিযোগও। আর এবার এই ঘটনায়, দলের একাংশের ভূমিকায় প্রশ্ন কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh)।
অভিষেক প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ
এদিন নিজের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে কুণাল ঘোষ লেখেন, 'অভিষেকের উপর হামলার প্রতিবাদে অন্য দলের জাতীয় স্তরের নেতাদের পোস্ট দেখলাম। কিন্তু আমাদের দলের বহু সাংসদ, বিধায়ক, কাউন্সিলর, পদাধিকারীর পোস্ট নজরে পড়ল না। অথচ সরকারটা তৃণমূলের থাকলে এঁদের অনেকের বোলচাল অন্যরকম হত। কারা দলের মঞ্চ ভাঙিয়ে নিজের কাজ করে গেল। এখন বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না। দাদা, অনুগামী, বস, ভিডিও, সেলফি - এদের একাংশ কোথায়?' লিখলেন কুণাল ঘোষ। প্রসঙ্গত , এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বলেছিলেন, অভিষেকের ঘটনার পরে, বিভিন্ন দলের তরফ থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। যদি কোনও প্রয়োজন হয়, তাহলে আশ্বাস দিয়েছেন রাহুল গাঁধী।
অভিষষেকের বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ?
ভোটে তৃণমূলকে ক্ষমতা থেকে টেনে নামিয়েছে সাধারণ মানুষ! আর শনিবার সেই সাধারণ মানুষের রোষের মুখেই পড়লেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়! আইনশৃঙ্খলা থেকে নারী নিরাপত্তা, রাস্তা থেকে ত্রাণ! গত ১৫ বছরে তৃণমূল জমানায় না পাওয়ার অভিযোগ তুলে তুমুল বিক্ষোভ দেখালেন মানুষ! কেউ বললেন রাস্তা নেই! কেউ বললেন ত্রাণ পাননি! কারও অভিযোগ নিরাপত্তা নিয়ে! এক বিক্ষোভকারী বলছেন, 'আমরা কোনও একটা খাবার পাইনি। আমরা একটা কম্বল পাইনি। যত এসেছে, তা সব চেপে দিয়েছে। তৃণমূলের। যেখানে তৃণমূল আছে, সেখানে রাস্তা আছে।' আরেক বিক্ষোভকারী আবার বলছেন, 'উনি যা করেছেন, ওঁর এটাই প্রাপ্য়। উনি ওপেন থ্রেট দিয়েছিলেন, ৪ তারিখের পরে মা-বোনেরা কেউ থাকবে না... সবকিছুকে মারবে এমনকী... এটা কিছু করাই হয়নি। কোনও পার্টির থেকে না, এটা জনতা করেছে। এটা জনগণ করেছে।'
