কলকাতা: বিধানসভায় শপথ নিয়েই ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের। সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখলেন, "তাপস রায়কে তৃণমূলে রাখতে চেষ্টা করেছিলাম, পারিনি, দুর্ভাগ্য। সজল পুরপিতাও বটে, উত্তর ও মধ্য কলকাতায় তাপস রায় ও সজল ঘোষদের বাধ্য করা হয়েছিল দল ছাড়তে।"

Continues below advertisement

আরও পড়ুন: হেলমেট ছাড়া বাইক চালালেই পাকড়াও, রণংদেহী রূপে কলকাতা পুলিশ

এই প্রসঙ্গে এবার মুখ খুললেন বিধায়ক তাপস রায়। তিনি বললেন, "বিষয়টা হচ্ছে কি, একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পছন্দের লোকজন। আরও কিছু কারণ ছিল, সেদিকে যাচ্ছি না। আর একদিকে অভিষেকের পছন্দের লোকজন। দুটো আবার একে অপরের উল্টো। অরাজনৈতিক লোকদের, ধান্ধাবাজ লোকেদের, স্বার্থপর সব লোক। আর এই বৈভব, অর্থ রোজগারের বন্দোবস্ত করা বা টাকা তোলা। কাটমানি শব্দ ব্যবহার করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এটা তো শুধু নীচের তলায় সীমাবদ্ধ ছিল এমন নয়। উপরের দিকেও ছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি মানুষের পালস খুব ভাল বোঝেন বা দেওয়ালের লিখন। কিন্তু দেওয়ালের লিখন কে করিবে খণ্ডন।" এর পর তাপস রায় এঁচোড়ে পাকা বলে কটাক্ষও করেন। তিনি বলেন, "তারপর আর কি, কার্বাইডে পাকা, এঁচোড়ে পাকা। দল বাংলার, তার আবার সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।"

Continues below advertisement

অন্যদিকে সজল ঘোষ কুণালের সঙ্গে সহমত পোষণ করলেও কটাক্ষ করতে ছাড়লেন না। সজল বলেন, "সহজ ভাষায় বললে আনগাইডেড মিসাইল। কখন কোথায় কার কপালে আছড়ে পড়ে বলা যায় না। উনি যেটা বলেছেন সেটা ঠিক। আর উনিও আমার সঙ্গে এমন কিছু করেছেন, সেটা সম্পূর্ণ ভাবে অনৈতিক। সেটার ব্যাখ্যা উনিও করতে পারবেন না। আমাকে আটকানোর চেষ্টা একমাত্র উনি করেছিলেন।"

আরও পড়ুন: সপ্তাহে ২ দিন বাড়ি থেকে কাজ, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরই দিল্লির সরকারি অফিসে 'ওয়ার্ক ফ্রম হোম'

কুণালের কথা না শুনে যে ভীষণ খুশি, সেটাও বললেন সজল। "হ্যাঁ। আজ আমি ভীষণ খুশি যে সেদিন আমি ওর কথা শুনিনি। তাহলে আজ আমাকে চোর শুনতে হত। আজ আমি বিধানসভায় শপথ নিচ্ছিল, সেটা নিতে পারতাম না। তাহলে আজ হতে বাজারে যেখানে যেতাম, মানুষ আমাকে চোর বলত", বললেন বরাহনগরের বিধায়ক সজল ঘোষ।

কুণাল ঘোষ লিখেছিলেন, "তাপস রায়কে তৃণমূলে রাখতে চেষ্টা করেছিলাম, পারিনি, দুর্ভাগ্য। পরে রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকলেও ব্যক্তিগতভাবে তাপস রায়কে ভাল বলায় আমাকে দল সাসপেন্ড করে। ঘটনাচক্রে আমি আজ তৃণমূলের বিধায়ক ও শপথবাক্য পাঠ করছি বিজেপির হয়ে জেতা তাপস রায়ের হাতে। ভাগ্যচক্র, সজল পুরপিতাও বটে, উত্তর ও মধ্য কলকাতায় তাপস রায় ও সজল ঘোষদের বাধ্য করা হয়েছিল দল ছাড়তে। ২ জনকেই রাখার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিলাম, আজ তাঁরা বিধায়ক। যাঁদের জন্য তাপস রায়, সজল ঘোষ ও আরও অনেকে দল ছেড়েছে, দলের ক্ষতি করেছে..., তারপরেও কাঁদুনি পলিটিক্স করে স্বজনপোষণ করছে, সেটা খুবই আপত্তির এবং উদ্বেগের। তৃণমূলকে চাঙ্গা করতে আত্মবিশ্লেষণ জরুরি।"