রাজর্ষি দত্তগুপ্ত, কলকাতা : তৃণমূল জমানায় 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' প্রকল্পে বেলাগাম দুর্নীতি। বছরে হাজার হাজার কোটি সরকারি টাকা নয়ছয় হয়েছে বলে তথ্য সামনে আসছে। সেই পরিমাণ কত তা জানলে অবাক হতে হয়।

Continues below advertisement

বিস্তারিত...

তৃণমূলে দুর্নীতির পাহাড়। ক্ষমতায় থাকাকালীন যে প্রকল্প নিয়ে বার বার প্রচার করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কত মহিলা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন সেই পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন, এবার সেই প্রকল্পেই দুর্নীতির খবর সামনে আসছে। রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই  দুর্নীতি , তোলাবাজি, মারধর, হুমকির অভিযোগে গ্রেফতার হচ্ছেন একের পর এক তৃণমূল নেতা। এবার লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে অপরিসীম দুর্নীতির তথ্য সামনে আসছে। যে সামাজিক প্রকল্পকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার তাদের অভিনব এবং সবচেয়ে বড় সামাজিক প্রকল্প হিসাবে সামনে রেখে গত বিধানসভা নির্বাচনেও প্রচার করে গিয়েছেন লাগাতার, সেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, যা বলা হত মহিলাদের ক্ষমতায়নের জন্য করা হয়েছে এবং এই প্রকল্পকে সামনে রেখে এই ভোটেও বাজিমাত করার কথা ভেবেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও তা হয়নি। 

Continues below advertisement

কিন্তু, আজ পালাবদলের পর...বিজেপি সরকার আসার পর দেখা যাচ্ছে যে, মহিলাদের জন্য যে প্রকল্প করা হয়েছিল, সেই প্রকল্পেও বছরের পর বছর চুরি হয়েছে। সেই চুরির পরিমাণ, খুব কম নয়। একটা বিপুল পরিমাণ অঙ্কের টাকা চুরি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে, মহিলাদের বদলে তৃণমূলের নেতা-কর্মী-সমর্থক যার যেখানে প্রভাব রয়েছে, তাঁরা প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে মহিলাদের জন্য বরাদ্দ টাকা পুরুষরা অ্যাকাউন্টে নিয়েছেন। গতকাল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নবান্নে বসে ঘোষণা করেছেন যে, এখনও পর্যন্ত যা তদন্তের গতিপথ এগিয়েছে তাতে এ পর্যন্ত ৩০ লক্ষ এরকম ভুয়া অ্যাকাউন্টের হদিশ পাওয়া গেছে। যা মহিলাদের বদলে পুরুষরা অ্যাকাউন্টে নিতেন। এই প্রকল্প মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চালু করেছিলেন। এতে টাকার পরিমাণও বাড়ানো হয়েছিল। যদি দেড় হাজার টাকা করে প্রত্যেক মহিলার অ্যাকাউন্টে টাকা যায় এবং ৩০ লক্ষ সেখানে ভুয়া অ্যাকাউন্ট থাকে, তাহলে মাসে তার পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৫০ কোটি টাকা। এক বছরের হিসাব করলে তার পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৪০০ কোটি টাকা। এই বিপুল অঙ্কের টাকা চোরাপথে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের অ্যাকাউন্টে ঢুকছিল। যারা মহিলা নন, পুরুষ। নতুন সরকারের এই কয়েক দিনেই তদন্তে যে তথ্য উঠে আসছে...সেই অনুযায়ী একাধিকজন গ্রেফতার হয়েছেন। প্রশ্ন উঠছে, এগুলো কি প্রশাসন জানত না ? তৃণমূল জানত না ?