অরিন্দম সেন, আলিপুরদুয়ার: গোঁফে তেল দিয়ে বসে থাকা নয়। সটান কাঁঠাল গাছের মাথায় উঠে গেল চিতাবাঘ। জৈষ্ঠ্য মাস হলে তাও না হয় কথা থাকত। ভরা পৌষে এমন ঘটনার সাক্ষী হলেন আলিপুরদুয়ারবাসী। নতুন বছরের একেবারে প্রথম দিনে সেখানে কাঁঠাল গাছের মগডালে চিতাবাঘকে বসে থাকতে দেখলেন সকলে। তাতে প্রাণ ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে এলাকায়। (Alipurduar News)
আলিপুরদুয়ার জেলায় অসম সীমানার কাছে অবস্থিত বারোবিশা দক্ষিণরামপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। সেখানকার বাসিন্দা প্রণয় ঘোষের বাড়িতে একটি কাঁঠাল গাছ রয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে সেই কাঁঠাল গাছের একেবারে মগডালে একটি চিতাবাঘকে বসে থাকতে দেখা যায়। বেশ বড় আকারের চিতাবাঘটিকে গাছে বসে থাকতে দেখেন প্রণয়ের পড়শি, এক মহিলা। (Leopard on Tree)
ওই মহিলা বাড়ির ছাদে মেলে রাখা শুকনো জামাকাপড় তুলে আনতে উঠেছিলেন। পাখির দল বড্ড বেশি কিচিরমিচির করছে শুনে কৌতূহল জাগে তাঁর। এদিক ওদিক তাকানোর পর প্রণবের বাড়ির কাঁঠাল গাছটির দিকে নজর পড়ে। আর তাতেই শিরদাঁড়া দিয়ে ঠান্ডা স্রোত বয়ে যায় তাঁর। গাছের মগডালে, দুই ডালের মাঝে চিতাবাঘটিকে বসে থাকতে দেখেন তিনি।
প্রথম দর্শনে ভিরমি খেলেও, একটু ধাতস্থ হয়ে এক প্রতিবেশীকে ডেকে বিষয়টি জানান। কাঁঠাল গাছে বসে থাকা চিতাবাঘ দেখান তাঁকেও। এর পর মুহূর্তের মধ্যে পাড়ায় চিতাবাঘের কথা ছড়িয়ে পড়ে। কাঁঠাল গাছে বসে থাকা চিতাবাঘ দেখতে রীতিমতো ভিড় জমে যায় এলাকায়।
গাছের ওপর পাখিদের অতিরিক্ত আওয়াজ শুনে গাছের দিকে খেয়াল করে দেখেন একটি চিতাবাঘ বসে রয়েছে কাঁঠাল গাছের দুই ডালের মাঝে। এরপর তিনি পাশের বাড়ির একজন কে ডেকে দেখান। মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে চিতাবাঘের কথা। সঙ্গে সঙ্গে ভিড় জমে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারাই এর পর বন দফতরকে খবর দেন। সেই মতো ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছন বক্সা বন দফতরের ভলকা রেঞ্জের কর্মী ও আধিকারিকরা। তবে বিকেল গড়িয়ে অন্ধকার নেমে এলেও চিতাবাঘটিকে কাঁঠাল গাছ থেকে নামানো সম্ভব হয়নি। এখনও গাছের মগডালেই বসে রয়েছে চিতাবাঘটি। তবে বন দফতরের কর্মীরা নজরদারি চালাচ্ছেন। চড়া আলো ফেলে বসে রয়েছেন সকলে। চিতাবাঘটি নিজে থেকে এলাকা ছেড়ে বেরিয়ে যায়, না কি ঘুমপাড়ানি গুলি ছুডে় তাকে কাবু করতে হয়, তা সময়ের উপর নির্ভর করছে।
তবে অন্ধকার নেমে আসতে আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। যদি কারও ঘাড়ে লাফিয়ে পড়ে চিতাবাঘটি, দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। বন দফতরের তরফে এলাকায় মাইকিং হচ্ছে। সকলকে সতর্ক করছে তারা। নিষেধ করা হচ্ছে বাড়ি থেকে বেরোতে।