কলকাতা: বছরের হাতে গোটা মাত্র আর কয়েকটা দিন বাকি। এই সময়ে রাস্তাঘাটের ভিড়ের ছবিটা একটু হলেও বদলে যায়। রাস্তায় ভিড় হয় বটে, তবে অধিকাংশটাই ঘুরতে যাওয়ার ভিড়। এই সময়টা অধিকাংশ মানুষই ছুটির মেজাজে থাকেন। কোথাও দেখা যায় খুদেদের হাত ধরে বাবা মা ভিড় জমিয়েছেন চিড়িয়াখানায় তো কোথাও ধরা পড়ে ময়দানে নিছক আড্ডার ছবি। ছুটি সফরে কলকাতার বুকে ঘোরাফেরা করার জন্য সাধারণ মানুষের অন্যতম ভরসা মেট্রো। শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চলে যাওয়াকে অনেকটাই সহজ করে দিয়েছে মেট্রো। পাশাপাশি, চলতি বছরে একাধিক মেট্রো লাইন জুড়ে যাওয়ার ফলে আরও বেশ কিছু জায়গায় যাতায়াত সহজ হয়েছে। তবে মেট্রো জাল বিস্তার করলেও এড়াতে পারছে না বিভ্রাট! আজ, শুক্রবার ফের বড়সড় বিভ্রাট কলকাতা মেট্রোয়!
আজ সন্ধের দিকে হঠাৎ নোয়াপাড়া থেকে বিমানবন্দর যাওয়ার মেট্রো রুটে ধরা পড়ে বিভ্রাট। নাহ, ট্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা নয়, বরং আচমকাই অন্ধকারে ঢেকে যায় একাধিক মেট্রো স্টেশন। যাত্রীরা স্বভাবতই বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। যাঁরা স্টেশনে নামছিলেন, তাঁরা আলোর কোনও রেখাই কার্যত দেখতে পাচ্ছিলেন না। বিমানবন্দর স্টেশনে ছিলে ঘুটঘুটে অন্ধকার। বাধ্য হয়েই মোবাইলের টর্চ জ্বেলে বেরোলেন যাত্রীরা। এরপরে জানা যায়, যশোর রোড, ক্যান্টনমেন্ট এবং বিমানবন্দর, তিনটি স্টেশনেই বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়েছে। এর ফলে, এসক্যালেটর, লিফট-সহ প্ল্যাটফর্মের সব বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিই বিকল হয়ে গিয়েছিল কিছুক্ষণের জন্য।
যাত্রীদের দাবি, সন্ধে ৭.৩৫ থেকে শুরু হয়েছে এই বিভ্রাট। রাত ৯.১৮-র শেষ মেট্রোর আগেও বিদ্যুৎ ফেরেনি। আচমকা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপত্তি, জানিয়েছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ। তাঁদের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলেও মেট্রো চলাচল স্বাভাবিক ছিল। ৭.২৭ নাগাদ এই বিভ্রাট হয় ও ৮টা নাগাদ তা আবার স্বাভাবিক ও হয়ে যায় বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। তবে মেট্রো পরিষেবার ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন যাত্রীরা। এই সময়টায় অনেকেই অফিস থেকে ফেরেন। পাশাপাশি, যাঁরা বিমানবন্দরে করে দূর থেকে আসেন, তাঁরা প্রচুর জিনিসপত্র নিয়েই মেট্রো সফর করেন। গোটা স্টেশন চত্বর অন্ধকারে ঢেকে যাওয়ায় বিভ্রাটে পড়েছিলেন তাঁরা। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার যাবতীয় চেষ্টা করেছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ। অল্পক্ষণের মধ্যেই স্টেশনে বিদ্যুৎ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয় বলে জানানো হয়েছে।