কলকাতা : মদন মিত্রকে ইডি- র ৮ ঘণ্টা জেরা। সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরিয়ে মদন মিত্র বললেন 'আমি শুধু চেষ্টা করিনি, পুরোপুরি সহযোগিতা করেছি। যা বলার এজেন্সিকে বলেছি। তারা যা জানতে চেয়েছে আমি সবটাই অফিশিয়ালি বলেছি। আমি মদন মিত্র কোনও ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত নই। আমি যতদূর জানি এবং আমার বিশ্বাস, আমার পরিবারের কেউও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত নয়। যদিও তারা আলাদা আলাদা থাকে, তাদের আলাদা আলাদা ব্যাপার। সংবিধান অনুসারে যেকোনও কেন্দ্রীয় এজেন্সির অধিকার আছে, ভারতের যেকোনও নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ হলে, তারা তদন্ত করতে পারে। আমার দায়িত্ব তাদের সহযোগিতা করা। ডেথ আর বার্থ সার্টিফিকেট ছাড়া সবই দিয়ে দিয়েছি।' পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দিতে আজ মদন মিত্রকে তলব করেছিল ED. এর আগে ১৪ জুলাই মদন মিত্রর স্ত্রী এবং দুই ছেলেকে ED নোটিস পাঠায়। পরদিনই শিবির বদলে 'ঋতব্রত-তৃণমূল'-এ চলে যান কামারহাটির বিধায়ক। এদিকে পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আগেই মদন মিত্রের স্ত্রী ও ২ ছেলে হাজিরা দিয়েছেন।
পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আজ মদন মিত্রকে প্রায় ৮ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করল ইডি। কোনও দুর্নীতির সঙ্গে আমি বা আমার পরিবার যুক্ত নই। ইডির দফতর থেকে বেরিয়ে বললেন কামারহাটির বিধায়ক। এর আগে ইডির তলব পাওয়ার পরদিনই ঋতব্রত-তৃণমূলে নাম লিখিয়েছিলেন মদন মিত্র। যা নিয়ে কটাক্ষ করেছে কালীঘাট-তৃণমূল শিবির। অন্যদিকে, দোষী প্রমাণিত হলে কেউ ছাড় পাবে না, বলছে বিজেপি।
১৫ কেজি সোনা, সাড়ে ২৮ কোটি নগদ, বীরভূমে মিনার মণ্ডলের বাড়িতে অভিযান শেষে মিলল কী কী ?
এক-দু'ঘণ্টা নয়, পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বুধবার মদন মিত্রকে ৮ ঘণ্টার ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। ইডি দফতরে ঢুকেছিলেন বেলা সোয়া ১২টা নাগাদ। আর বেরোলেন রাত আটটার পরে। পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে কামারহাটির বিধায়কের বিরুদ্ধে। ইডি সূত্রে খবর, কখনও নগদ, আবার কখনও সোনাদানা ঘুষ দিয়ে কামারহাটি ও টিটাগড় পুরসভায় চাকরি পেয়েছেন অন্তত ১২৫ জন। ED-র তদন্তকারীদের অনুমান করোনাকালের পরে ওই পুরসভায় চাকরিপ্রার্থীদের নাম সুপারিশ করেন মদন মিত্র। সংখ্যাটা ১০০-র ওপরে। সেখানে মদন মিত্রের সুপারিশে কতজন চাকরি পেয়েছেন তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। একইসঙ্গে ED সূত্রে দাবি, মদন মিত্রের স্ত্রী ও তাঁর দুই ছেলের নামে থাকা তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মধ্যে দুটিতেই সন্দেহজনক লেনদেন লক্ষ্য করা গেছে। তদন্তকারীদের অনুমান, সেই সন্দেহজনক লেনদেন পুরসভায় চাকরি বিক্রির টাকা হতে পারে। ২০১৬-১৭ সালে একটি নির্দিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন করা হয় মদন মিত্রকে।
