সমীরণ পাল, উত্তর চব্বিশ পরগনা : SIR যেন মূর্তিমান আতঙ্ক! দিনের পর দিন বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গে এসে থাকার পর এখন বাংলাদেশে পালাচ্ছেন অনুপ্রবেশকারীরা! এই ছবি বেশ কিছু দিন ধরেই দেখে আসছে বঙ্গবাসী। SIR আর কী, 'খায় না মাথায় দেয়', একথা বুঝে ওঠার আগেই অনেকে বাক্সপ্যাঁটরা গুছিয়ে ফেলেছেন! ভয় একটাই, যদি ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেয়! এই ভয়ে রাতারাতি উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরে বাংলাদেশে ফেরত যাওয়ার লাইনটা ক্রমেই লম্বা হয়েছে। এই আবহেই এবার SIR চলাকালীন ফাঁকা হয়ে গেল উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের একটি এলাকার একাংশ।
ফাঁকা গোটা একটা গ্রাম
এসআইআর আবহে জনশূন্য হয়ে গিয়েছে মধ্যমগ্রাম পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড । মধ্যমগ্রামের মাঠপাড়ার এই গ্রামের গোটাটাই এখন জনমনিষ্যিহীন। গ্রামটা পুরো খালি। গোটা গ্রামে ১০০-র বেশি পরিবার থাকত বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু রাতারাতি উধাও সবকটি পরিবার। এই এলাকার মানুষজন বেশিরভাগই অসংগঠিত ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। যেমন কেউ কাগজ কুড়োতেন, কেউ জঞ্জাল সাফাইয়ের কাজ করতেন। শুধু এদেশে থাকা নয়, স্থানীয়দের অভিযোগ, এখানকার বাসিন্দারা রীতিমতো নাগরিকদের যা যা সুবিধা পাওয়ার কথা, সবই পেতেন। কিন্তু এসআইআর চালু হতেই জানা যায়, ২০০২-এর ভোটার তালিকায় নাম থাকতেই হবে। নিজের না হলেও, বাপ-ঠাকুর্দার তো বটেই। কিন্তু সে তালিকায় এদের কারও নাম নেই। তাই এরা তড়িঘড়ি এলাকা ছেড়েছেন। তালিকায় নাম না-থাকায় সবাই চলে গেছেন, দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের। কোথায় চলে গিয়েছেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কেউ কিছু বলতে পারছে না।
গত কয়েক সপ্তাহে উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরে বাংলাদেশে ফিরে যেতে চেয়ে মানুষের ভিড় বেড়েছে। নির্দিষ্ট তল্লাশি ও খোঁজখবর নিয়ে, কাগজপত্র দেখে তাঁদের ওপার-বাংলায় পাঠানো হচ্ছে। তাদের বেশিরভাগই ক্যামেরার সামনে স্বীকারই করে নিয়েছে, ওপার থেকে বেআইনি ভাবেই এদেশে এসে থাকতে শুরু করে দিয়েছিলেন। এতদিন এভাবেই থেকে গিয়েছিলেন তারা। এবার আর উপায় নেই, বুঝে, বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন তাঁরা। তবে কি মধ্যমগ্রামের এই গ্রামের বাসিন্দারাও বাংলাদেশমুখী? প্রশ্ন উঠছে।