কলকাতা : উত্তম কুমার স্মরণে মহানায়ক সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান। মহানায়কের প্রয়াণ দিবসে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন তাঁর জীবনের একটা বড় আফশোস যে কখনও উত্তম কুমারের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়নি। এর পাশাপাশি সিনেমার গানে মহানায়কের লিপসিং করার যে অসামান্য দক্ষতা ছিল, সেই কথাও বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে সব ছাপিয়ে বারবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে উঠে এসেছে বাংলা ভাষার কথা, বাংলা ভাষাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা। 

Continues below advertisement


এদিনের অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'বাংলার সংস্কৃতিকে আমাদের আরও বিকশিত, কুসমিত, পল্লবিত, সুললিত, সুরভিত, সুশোভিত করতে হবে। কারণ সভ্যতা এবং সংস্কৃতি হচ্ছে একটা জাতির মেরুদণ্ড। যতই হোক, দিনের শেষে আমার মুখ দিয়ে কিন্তু মাতৃভাষাটা বেরোবেই। শিশুরা যেমন ছোট্টবেলা থেকে মা কথাটা প্রথম বলতে শেখে, সেরকম মনে রাখবেন এটা আমাদের অভ্যাস হয়ে গিয়েছে। সকলকে সম্মান করে বলছি বাংলা ভাষার উপর এখন ভষা সন্ত্রাস চলছে। বাংলা ভাষায় যাঁরা কথা বলেন, তাঁদের উপর অত্যাচার চলছে। আর একটা ভাষা আন্দোলন যাতে সমাজকে জাগ্রত করতে পারে। আমাদের বাংলা ভাষা সারা বিশ্বে পঞ্চম স্থানে আর এশিয়াতে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। প্রায় ৩০ কোটি মানুষ কথা বলে বাংলা ভাষায়। আর এই বাংলা ভাষায় কথা বললে জেলে নিয়ে যাওয়া হবে এটা আমি মানতে পারছি না। সব সিনেমাকে গুরুত্ব দিন, কিন্তু বাংলা সিনেমাকে একটু বেশি গুরুত্ব দিন। বাংলা ভাষায় যাঁরা গান করেন তাঁদের একটু বেশি গুরুত্ব দিন।' 


আজকালকার সিরিয়ালের বিষয় বস্তু নিয়েও যে মুখ্যমন্ত্রী বিশেষ প্রসন্ন নন, এদিনের অনুষ্ঠানে তাও প্রকাশ পেয়েছে। খানিক উষ্মা প্রকাশ করেই এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, 'সিরিয়ালের ক্ষেত্রেও বলব দয়া করে দেখুন খারাপ কিছু শেখাতে যাবেন না। অনেকেই সিরিয়াল দেখে আত্মহননের পথ নিচ্ছে। সিরিয়াল বাড়াতে হবে বলে গুণ্ডামি দেখাবেন না। ভাল কিছু দেখান। কত কিছু আছে যেগুলো গঠনমূলক। ওইসব গুলি-বন্দুক দেখালেই আমি বন্ধ করে দিই। সারাদিন কাজে কর্মে থাকি। আবার টেনশন করব। ওটা আরামের জায়গা। হাসি, খুশি, মজা, সামাজিক গল্প দেখান। সিরিয়ালে এখন বাংলা গান কোথায়, এরা ভাবে শুধু ঝিকঝ্যাক ঝুমঝাম দিয়ে দিলেই হল। আরে বাজান না। বলিউড তো আছে। টলিউডে তো বাংলা গানটা একটু বেশি করে দেবেন। এখন তো যাঁরা গান করেন, তাঁরাই লেখেন। এটা এখনকার ক্রিয়েটিভিটি। সব ভাষাকেই ব্যবহার করতে হবে। সাউথের গানও আমরা দেব। সব ভাষাকেই সম্মান করি। তবে ডাবিং করতে গিয়ে আমরা যেন আসলটা হারিয়ে না ফেলি। সব ভাষার সমন্বয়ে ঐক্য গড়ে উঠুক। তবে বাংলা ভাষাকে বাদ দিয়ে আমরা কিছু করতে পারব না।'