সোমক লাহিড়ী, মালদা : মৌসম বেনজির নুর তৃণমূল ছেড়ে হাত শিবিরে ফেরার পর থেকেই মালদায় চলছেই ঘর ভাঙা-ভাঙি। বিধানসভা ভোটের মুখে কখনও হাত শিবির ছাড়ছে দলে দলে কর্মী। কখনও আবার ঘাসফুল শিবির ছেড়ে যাচ্ছে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। সব মিলিয়ে ঘর বদলাবদলি চলছেই। এবার মৌসমের বর্তমান দল কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলের ঝাণ্ডা ধরলেন ৪ কংগ্রেস সদস্য।      

Continues below advertisement

মৌসম বেনজির নুরের শিবির বদলের পর থেকেই এই ঘরবদলের  রাজনীতি চলছেই।গত ২০ জানুয়ারি, এই পঞ্চায়েত এলাকাতেই, 'জোড়াফুল' ছেড়ে 'হাত' ধরেন ৬০ জন তৃণমূল কর্মী। দলবদলকারীদের হাতে কংগ্রেসের পতাকা তুলে দেন মৌসম বেনজির নুর ও মালদা দক্ষিণের কংগ্রেস সাংসদ ও মালদার কংগ্রেস সভাপতি ঈশা খান চৌধুরী। সেই ঘটনার প্রায় ১২ দিন পর, পাল্টা কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে এলেন ৪জন কংগ্রেসের সদস্য।            

এবার 'হাত' ছেড়ে 'জোড়াফুল' শিবিরে নাম লেখালেন কালিয়াচকের উত্তর পঞ্চানন্দপুর ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৪ জন কংগ্রেস সদস্য। দলবদলকারীদের হাতে তৃণমূলের পতাকা তুলে দেন মোথাবাড়ির তৃণমূল বিধায়ক সাবিনা ইয়াসমিন। ৪ জনের দলবদলের ফলে, এখন পঞ্চানন্দপুর ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল তৃণমূল। এ প্রসঙ্গে কংগ্রেসের কটাক্ষ, 'চার সদস্যকে তৃণমূলে নিয়ে ভোটের বৈতরণী পার করতে পারবেন না মন্ত্রী।' বিজেপির দাবি, 'এই যোগদান করিয়ে তৃণমূলের কোনও লাভ হবে না।'       

Continues below advertisement

এর আগেও এই ঘরবদল ঘটেছিল। মৌসম বেনজির নুরের কংগ্রেসে যোগদানের পরেই ১২ জানুয়ারি,  মালদার বৈষ্ণবনগরে কংগ্রেসে ভাঙন ধরে। চরিঅনন্তপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন পাঁচ জন গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য ও একাধিক পদস্থ নেতা। যোগদানকারীদের মধ্যে ছিলেন প্রাক্তন গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ও প্রাক্তন পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য মতিউর রহমান। বৈষ্ণবনগরের বিধায়ক চন্দনা সরকারের হাত ধরে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন। এদিন কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করেন ৭০০ জন কর্মীও। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কালিয়াচক তিন নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মাসিদুর রহমান, অঞ্চল সভাপতি আনিকুল ইসলাম সহ দলের একাধিক নেতা-কর্মী। যদিও এইসব দল বদলকে আগেও গুরুত্ব দেয়নি কংগ্রেস, এবারও গুরুত্ব দিল না তারা।