সোমক লাহিড়ি, মালদা : জুতোর নিচে ফেলে ঘষা হল পতাকা। ছিঁড়ে ফেলা গল স্বামী বিবেকানন্দের ছবি দেওয়া পোস্টার । ভাইরাল ভিডিওয় দেখা গেল এমন ছবিই। মালদায় অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) পতাকা ছেঁড়া ও মাড়ানোর অভিযোগে উত্তাল হল মালদহের সামসি কলেজ। ঘটনায় তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ২ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ভাইরাল ভিডিওয় স্পষ্ট দেখা গিয়েছে, স্বামী বিবেকানন্দের ছবি দেওয়া এবিভিপির পোস্টার ছেঁড়া হয়েছে। পতাকা পদদলিত করার ছবিও ধরা পড়েছে ওই ভিডিওয়। যদিও এবিপি আনন্দ ওই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি।
মালদার সামসি কলেজের ওই ঘটনার ছবি ভাইরাল হয়েছে সোশাল মিডিয়ায় । ABVP-র অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হল ওই কলেজের দুই পড়ুয়া দেবজিৎ সাহা ওরফে ঋজু ও অরিজিৎ রবিদাসকে। অন্যদিকে, ঘটনার পর থেকে বেপাত্তা মূল অভিযুক্ত তারেক আনোয়ার নামে TMCP-র এক সদস্য। এই ঘটনার পরপরই সোশাল মিডিয়ায় ক্ষমা প্রার্থনা করে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন তিনি। তাঁর দ্রুত গ্রেফতারির দাবি তুলেছে ABVP ।
উত্তর মালদার ABVP জেলা সংযোজক প্রসূন চৌধুরী বলেন,'তৃণমূল সরকার থাকাকালীন দেখেছি, চাঁচল কলেজে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি পোড়ানো হয়েছিল। এই অভ্যেস এদের এখনও যায়নি।' অন্যদিকে ক্ষমা চেয়ে অভিযুক্ত তারেক আনোয়ার ভিডিও পোস্ট করে বলেছেন, 'আমি ক্ষমা চাইছি, এগুলো ভুল হয়েছে আমার করা। ক্ষমাপ্রার্থী আমি। ... ABVP-র কাছে ক্ষমা চাইছি, প্রিন্সিপাল স্যরের কাছে ক্ষমা চাইছি।'
কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি ও বিজেপি বিধায়ক গৌরচন্দ্র মণ্ডলের দাবি, যে কেউ যে কোনও সংগঠন করতে পারে। কিন্তু, কলেজে এ ধরনের অশান্তির ঘটনা ঘটলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে কলেজের প্রাক্তন TMCP সভাপতি প্রসূন রায় বলেছেন, তারেক আনোয়ার বলে কাউকে চেনেন না তিনি। বর্তমানে তাদের সংগঠনের কোনও কমিটি নেই বলে জানান তিনি।
সম্প্রতি যাদবপুর কাণ্ডের পরে এবিভিপি ও SFI-এর মধ্যে সংঘর্ষ ঘিরে উত্তাল হয়ে ওঠে মেদিনীপুর কলেজ। মাটিতে ফেলে মারা হয় কিল, চড়, ঘুষি। একে অপরের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তুলল এবিভিপি ও এসএফআই। যাদবপুরকাণ্ডের প্রতিবাদে শুক্রবার মেদিনীপুর কলেজে প্রতিবাদ কর্মসূচি চালাচ্ছিল এসএফআই। অভিযোগ, তখনই সেখানে তাদের ওপর চড়াও হয় অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের সদস্যরা। দুপক্ষের মধ্যে বেধে যায় সংঘর্ষ । বহিরাগতরা কলেজে ঢুকে মারধর করেছে বলে অভিযোগ তোলে এসএফআই।
