রবিবার 'বাংলার যুব সাথী' প্রকল্পের ক্যাম্প শুরুর দিনেই উত্তেজনার ছবি ধরা পড়ল।  বিধানসভা ভোটের আগে অন্তর্বর্তী বাজেটে বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য নতুন প্রকল্প 'বাংলার যুব সাথী' ঘোষণা করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।

Continues below advertisement

রবিবার প্রত্যেক বিধানসভা কেন্দ্রে 'বাংলার যুব সাথী' (বেকার ভাতা) ক্যাম্প শুরু হল। আর প্রথম দিনেই মালদার চাঁচলে আবেদনপত্র সংগ্রহে তুলকালাম বেঁধে যায়। আবেদনকারীর অভিযোগ, 'ভোরবেলা থেকে আমরা দাঁড়িয়ে। এই সিস্টেমটা আগে করতে হত। আজকে ১৫০০ টাকার জন্য এখানে পড়ে আছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এরকম সিস্টেম করেছে। একটা মহিলার যদি কিছু হয়ে যায়, কে দায় নেবে? বিদেশে যাচ্ছি কাজ পাচ্ছি না। আর এখানে আসলেও এই সমস্যা।' 

সকাল থেকেই চাঁচল ১ নম্বর ব্লকের পাঞ্চালি মাঠে ভিড় জমছিল। আবেদনকারীদের দাবি, মহিলা ও পুরুষের আলাদা লাইন না করায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। আরেল আবেদনকারীর কথায়, 'আমরা কত কষ্ট করে এসেছি। আমাদেরকে ধাক্কা মারছে, আমাদেরকে কাগজ দিচ্ছে না। আমরা কী করে এখানে দাঁড়াব? আমরা তো অসহায় মানুষ।' 

Continues below advertisement

প্রথমে, চলতি বছরের ১৫ অগাস্ট থেকে এই প্রকল্প চালু হওয়ার কথা থাকলেও, পরে তা প্রায় ৪ মাস এগিয়ে এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরমধ্যেই রবিবার এই বিশৃঙ্খলাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। চাঁচলের পাশাপাশি উত্তর দিনাজপুরের চোপড়াতেও অশান্তির ছবি ধরা পড়ল। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘ লাইনে কেউ রটিয়ে দেয়, যে লাইনের পিছনে থাকা ব্যক্তিদের আগে সুবিধা করে দেওয়া হচ্ছে।এরপরই পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়ান এক যুবক। পাল্টা মারধর করে পুলিশ। 

প্রসঙ্গত, বেকার যুবকদের ১৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে প্রকল্পে, অন্তর্বর্তী বাজেটে ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। ১৫ অগাস্ট থেকে চালুর ঘোষণা বাজেটে, পরে ৪ মাস এগিয়ে আনা হয় প্রকল্প। প্রকল্প শুরুর আগেই আক্রমণ শুভেন্দু অধিকারীর, পাল্টা জবাব শাসক দলের। 'সব অনলাইন হয়ে যাওয়ার পরও কেন শিবির করে ফর্ম? কেন অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ নয়, প্রশ্ন শুভেন্দুর। 'সারা দেশে ১১ বছরে নতুন করে ১৭ কোটি বেকার তৈরি হচ্ছে', কেন্দ্রীয় বঞ্চনার পরও রাজ্যে কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে, পাল্টা তৃণমূল।