কলকাতা: SIR নিয়ে ভূরি ভূরি অভিযোগের মধ্যেই মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি, সহকারী সভাধিপতি নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মামলা দায়ের হল। মামলা দায়ের করেছে জেলা কংগ্রেস। পুলিশের বিরুদ্ধে অতিসক্রিয়তার অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের করেছে তারা। জেলা কংগ্রেসের দাবি, রাজ্য সরকার এবং বিজেপি-র নির্দেশে কাজ করছে পুলিশ। জোর করে জেলা পরিষদ দখল করা হয়েছে।  নির্বাচনের আগে জেলা পরিষদদের আটক করা এবং নির্বাচন মিটে যাওয়ার পর তাঁদের ছেলে দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস। হাইকোর্টে মামলার শুনানি হতে পারে। (Malda Election Case)

Continues below advertisement

গত ৬ অক্টোবর মালদা জেলা পরিষদ নির্বাচনে সভাধিপতি পদে জয়ী হন দীপালি বালা। সহকারী সভাধিপতি পদে জয়ী হন লিপিকা বর্মন। কংগ্রেস জানিয়েছে, ৪৩ আসন বিশিষ্ট ওই জেলা পরিষদে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল। কিন্তু জোর করে জেলা পরিষদ দখলের পথে হাঁটে বিজেপি। ৫ অক্টোবর জেলা পরিষদের চার জন সদস্যকে আটক করা হয়। নির্বাচনের পর ৬ অক্টোবর ছেড়ে দেওয়া হয় তাঁদের। আগামী ১৬ অক্টোবর মামলার শুনানি করতে পারে আদালত। (Calcutta High Court)

আরও পড়ুন: Tata গ্রুপের অন্দরে টানাপোড়েন চরমে, জল গড়াল আদালতে, ক্যাভিয়েট দাখিল করলেন নোয়েল টাটা ও ছেলে নেভিল

Continues below advertisement

মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি এবং সহকারী সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছিল। সেই সময়ই কংগ্রেস আশঙ্কা করে যে, অনাস্থা প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে নির্বাচন হলে গন্ডগোল হতে পারে। সেই মতো আগেই মামলা করে কংগ্রেস। এর পর ৬ অক্টোবর নির্বাচন হয় মালদা জেলা পরিষদে। আদালতে কংগ্রেস জানিয়েছে, আশঙ্কা ছিল বলেই জেলা পরিষদের অন্য সদস্যদের ঝাড়খণ্ডের একটি গেস্ট হাউসে রাখা হয়েছিল। কিন্তু এ রাজ্যের পুলিশ সেই গেস্ট হাউসে পৌঁছে যায়। সেখানে জেলা পরিষদের সদস্যদের হুমকি দেওয়া হয়। 

আরও পড়ুন: ‘তেরঙ্গা ওড়ানো অপরাধ নয়’, মতবিরোধের তত্ত্ব উড়িয়ে ককরোচ জনতা পার্টির পাশে দাঁড়ালেন রাহুল গাঁধী

শুধু তাই নয়, কংগ্রেসের দাবি, হুমকি দেওয়া হয় জেলা পরিষদের সদস্যদের পরিবারের লোকজনকেও। ৫ অক্টোবর ভোট দেওয়ার জেলা পরিষদের ওই সদস্যরা যখন মালদা স্টেশনে নামেন, সেখান থেকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয় চার জনকে। তার পর দিন, ৬ অক্টোবর নির্বাচন মিটে যাওয়ার পরই ছেড়ে দেওয়া হয় তাঁদের। নির্বাচনের জন্যই কি তাহলে আটক করা হয়েছিল ওই চারজনকে? প্রশ্ন তুলেছে জেলা কংগ্রেস। পুলিশ সরকার এবং বিজেপি-র হয়ে কাজ করছে বলে দাবি করেছে তারা। 

রাজ্যের সরকার এবং বিজেপি-র তরফে মালদা জেলা পরিষদ দখল করার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং পুলিশ সেই মতোই অতিসক্রিয়তা দেখিয়েছে বলে দাবি করেছে কংগ্রেস। মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি এবং সহকারী সভাধিপতি নির্বাচনকেই তাই সরাসরি চ্যালেঞ্জ করছে তারা। ওই নির্বাচন পুরোপুরি বাতিল ঘোষণার আবেদন জানানো হয়েছে আদালতে। পুনরায় নির্বাচনের আবেদনও জানানো হয়েছে। মামলাটি দায়ের হয়েছে আদালতে। মামলার গুরুত্ব বুঝে ১৬ অক্টোবর আদালতে শুনানি হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।