কলকাতা : পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আঁচ এসে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের রান্নাঘরে। লম্বা লাইন, ক্ষোভ-বিক্ষোভ... গ্য়াস সিলিন্ডারের আকালে জেলায় জেলায় দেখা যাচ্ছে ভোগান্তির এই ছবি। এই পরিস্থিতিতে মানুষের ভোগান্তি কমাতে রাজ্য কি ভর্তূকি দেওয়ার কথা ভাবছে ? এবিপি আনন্দর সম্পাদক সুমন দে-র সঙ্গে ফোনে এক্সক্লুসিভ কথোপকথনের সময় এ প্রসঙ্গে যা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়...

Continues below advertisement

সুমন দে : যদিও আমি জানি যে, গ্যাসের দাম বা পেট্রোলিয়াম প্রোডাক্ট বাবদ রাজ্যের কাছে যে টাকাটা পৌঁছায় সেটা জনগণের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যের ফান্ডিংয়ের একটা বড় অংশ সেখান থেকে আসে...

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় : দেখুন, আমরা চার বছর ধরে আমাদের ফান্ড পাই না। তা সত্ত্বেও দরকার হলে...মানি এখানে ফ্যাক্ট নয়। মানুষকে প্রয়োজনে আমরা সাবসিডি দিতে পারি। কিন্তু, সাপ্লাই না হলে সাবসিডি দেব কোথায় ?  

Continues below advertisement

সুমন দে : আমি সাবসিডির কথাতেই আসছিলাম। যে, ৮৭৯ টাকা যখন দাম ছিল, তখন কেন্দ্র পেত ২০ টাকা ৯৩ পয়সা, আর রাজ্য পেত ২০ টাকা ৯৩ পয়সা, এখন আরও বেড়েছে। এখান থেকে কোনও সাবসিডির কথা কি রাজ্য ভাবছে ?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় : সাবসিডি ইজ নট দ্য প্রায়োরিটি। প্রায়োরিটি হচ্ছে সাপ্লাই। এখন সাপ্লাইটা হলে তখন আমি তো এসব ভাবব । আমি তো নিশ্চয়ই চাইব না মিড ডি মিল আটকে যাবে সাবসিডির জন্য। আমি তো নিশ্চয়ই চাইব না, আইসিডিএস আটকে যাবে সাবসিডির জন্য। হাসপাতাল আটকে যাবে সাবসিডির জন্য। ফান্ড এখানে আমরা যেমন করে হোক জোগাড় করব। কিন্তু, সেটা ফ্যাক্টর নয়। ফ্যাক্টর হচ্ছে, আমাদের যেটা করতে হবে, সেটা হচ্ছে আমাদের সাপ্লাই চেনটা ফার্স্ট ওপেন করতে হবে। সাপ্লাই চেনটা কোথায় মজবুত আছে, কোথায় পাওয়া যেতে পারে সেটা আগে দেখা দরকার। সাপ্লাই চেনই যদি না থাকে আপনি সাবসিডিটা কাকে দেবেন ? আমি এইমাত্র খবর পেলাম, যারা মিটিংয়ে গিয়েছিলেন, তাঁদের ইনপুট হচ্ছে, সাপ্লাই চেন দিতে পারল না। যেটা স্বরাষ্ট্র সচিব মিটিং করেছেন। সরকারের তরফ থেকে খবর পেলাম, সাপ্লাই চেনটা দিতে পারল না। আমি আপনাকে বলছি, ফান্ডের জন্য সমস্যা হবে না। আমি দরকার হলে ভিক্ষা করে ফান্ড জোগাড় করব। কিন্তু, সাপ্লাই চেন দিতে হবে। মানুষ যাতে সাপ্লাই পায় তার ব্যবস্থা আগে করতে হবে।