কলকাতা:বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হলেও, ‘খেলা’ শেষ হবে না। SIR-ধর্নামঞ্চ থেকে এমনই ঘোষণা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য়মন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ‘খেলা’ সুপ্রিম কোর্টের হাতে থাকবে এবং তাঁরা কড়া নজর রাখবেন বলে জানিয়ে দিলেন তিনি।
মঙ্গলবার SIR নিয়ে শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, নির্বাচনের আগের দিন সমাধান হলেও ভোট দিতে পারবেন সংশ্লিষ্ট ভোটার। জুডিশিয়াল অফিসারদের বিরুদ্ধে নিয়ে প্রশ্ন তোলায় যেমন জরিমানার কথা বলা হয়েছে, তেমনই নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্য, দুই পক্ষের সততা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করে সর্বোচ্চ আদালত।
এই গোটা বিষয়টিতে নিজেদের জয় দেখছে তৃণমূল। তাই মমতা এদিন বলেন, “এটা নিয়ে আমরাও পিটিশন আছে। নির্বাচন ঘোষণা করে দিলেও ভাববেন না, সুযোগ নেই আপনার। নাম বাদ গিয়ে থাকলেও, অবিচার হয়ে থাকলে, নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত আসবেন। ২৫ তারিখ শুনানির পরবর্তী দিন দিয়েছে। ১৫-১৬ তারিখ নির্বাচন ঘোষণা করে দিলেও খেলা শেষ হবে না। খেলা রয়ে গেল সুপ্রিম কোর্টের হাতে। আমরা দেখব।”
মমতা আরও বলেন, “আমাদের পিটিশন অনুযায়ী, এই অর্ডারগুলি হয়েছে। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে ট্রাইব্যুনাল তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থা এবং ভরসা যেন অক্ষুণ্ণ থাকে। বিশেষ মামলা হিসেবে বাংলাকে রেখেছে। ট্রাইব্যুনালে গিয়ে ক্লিয়ার করাতে পারবেন। নাম ডিলিট হয়েছে যাঁদের, যাঁদের নাম বিবেচনাধীন, সকলেই ট্রাইব্যুনালে যেতে পারবেন। যে দরজাটা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, সেটা আজ খুলে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এটা মানুষের জয় বলে মনে করি।”
আজও ধর্নামঞ্চ থেকে নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করেন মমতা। বলেন, “৬০ লক্ষ লোকের লজিস্টিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি করেছে। নাম বিবেচনাধীন রেখেছে। বিজেপি-র কথায় এটা করেছে। কারণ বিজেপি ১.৫ কোটির সংখ্য়াটা বলেছিল। ওদের সন্তুষ্ট করতে রোজ রোজ মেসেজ, অ্যাপ পাল্টাচ্ছে, হোয়াটসঅ্যাপের অপব্যবহার করছে। বিচারকদের যে বিভ্রান্ত করছিল, তাদের ভর্ৎসনা করেছে আদালত।” আগে যে ৫৮ লক্ষের নাম বাদ গিয়েছিল, তাঁরাও ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে পারেন বলে জানান মমতা।
পাশাপাশি, নির্বাচনের আগে বিজেপি-র নেতারা জায়গায় জায়গায় হোটেল ভাড়া করে আছেন, দেদার টাকা খরচ করছেন বলেও আক্রমণ শানান মমতা। যুদ্ধের আবহে এখন গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে বললেও, মনমোহন সিংহ জমানার পর থেকে কতবার গ্যাসের দাম বেড়েছে, প্রশ্ন তোলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ১০-১২ বছর ধরে কী করেছেন, তা নিয়ে বিজেপি-র চার্জশিট তৈরি করা উচিত বলে কটাক্ষ করেন।
