কলকাতা : "যাদের যেতে হয় যান, যা পড়ে থাকবে সেটাই আমরা সোনার খনি।" মদন মিত্র শিবির বদলের পর ফেসুবক লাইভে এমনই বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কামারহাটির বিধায়কের নাম না করে তিনি বলেন, "একজন আজও চলে গেছে। আমার কোনও দুঃখ নেই। কারণ সে আমায় কালই মেসেজ দিয়ে বলেছিল যে, পরিবারের সকলকে সমন দিয়েছে ইডি। তখনই আমি বুঝে গিয়েছিলাম। তখনই তাঁর কোনও পজিশন ছিল না। কারণ, তখনই আমরা তাঁকে সরিয়ে দিয়েছিলাম ক্ষমতা থেকে। কাজেই মিথ্যা কথা বলে চাতুরি করার কেউ চেষ্টা করবেন না। যাদের যেতে হয় যান, যা পড়ে থাকবে সেটাই আমরা সোনার খনি।"

Continues below advertisement

পশ্চিমবঙ্গে রাজনীতির খেলায় প্রতি মুহূর্তে শিবির বদল চলছে। হাতে গোনা যে কয়েকজন কালীঘাটে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের সঙ্গে ছিলেন তার মধ্য়ে অন্য়তম মদন মিত্র। হঠাৎ করেই বুধবার ঘুম থেকে উঠে ঋতব্রত-তৃণমূল-এ যোগ দিলেন। মঙ্গলবার জানা যায়, পুর-নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মদন মিত্রর স্ত্রী ও দুই ছেলেকে তলব করেছে ED। বুধবার তিনি 'কালীঘাট-তৃণমূল' ছেড়ে 'ঋতব্রত-তৃণমূল'-এ যোগ দিলেন। ২১শে জুলাইয়ের আগে আরও নিঃস্ব মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। তাঁর একদা বড় বড় প্লেয়াররা চোখের সামনে দিয়ে অন্য় দলে চলে যাচ্ছেন। আর একসময় অন্য় দল ভাঙিয়ে প্লেয়ার আনতে পটু মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় বসে বসে তা দেখছেন। কিন্তু করার কিছু নেই। কারণ এখন আর তাঁর হাতে ক্ষমতা নেই, পুলিশ নেই, প্রশাসন নেই। তাই এখন তিনি দেখছেন, আর অন্য়রা খেলছেন। এই আবহে এদিন ফেসবুক লাইভ করে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিনি বলেন, "আমাদেরও অনেক শিক্ষা হয়েছে। আমি মানুষের কাছে করজোড়ে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি বেইমানদের জন্য। আমাদের সিম্বলে তাঁদের আপনারা জিতিয়েছেন। আমরা দুঃখিত, ক্ষমাপ্রার্থী। এদের অনেকের অনেক লাগেজ-ব্যাগেজ আছে। আগে কেউ আমাদের কোনও রিপোর্ট করেনি। আমি যার সম্বন্ধে জেনেছি, আমি কিন্তু অ্যাকশন নিয়েছি। কিন্তু যেটা আমার অজানা, এখন সেই অজানা সত্যিগুলো কোথাও কোথাও জানতে পারছি। সেই ভয়ে মনে রাখবেন...বিজেপি বলেছিল না 'ভয় আউট, ভরসা ইন', এদের 'ভয় ইন, ভরসা আউট' দেখিয়ে...'ভরসা ইন, ভয় আউট' করাচ্ছে। যাদেরই লাগেজ, ব্যাগেজ, প্যাকেজ আছে, তাঁরাই কিন্তু আজ বিজেপির কোলে দোলা খাচ্ছে। তাঁদের দোলা খেতে দিন। "

Continues below advertisement