কলকাতা: বিধানসভা ভোটের মুখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য ঘিরে উত্তাল হয়েছে রাজ্য রাজনীতি। শনিবার ব্রিগেড থেকে যা নিয়ে কড়া আক্রমণ শানালেন নরেন্দ্র মোদিও।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে বলেছিলেন, 'আমরা আছি বলে না আপনারা সবাই ভাল আছেন। আর যদি আমরা না থাকি, কোনও দিন সেরকম আসে, এক সেকেন্ড লাগবে। একটা কমিউনিটি যখন জোট বাঁধে না, ঘিরে ফেললে এক সেকেন্ডে দেবে একদম বারোটা বাজিয়ে। যদি নিজেদের ১৩ টা বাজাতে না চান বিজেপির অপপ্রচারে কেউ ভুল বুঝবেন না।'
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, 'খোলাখুলি ধমকি দেওয়া হচ্ছে, বলা হচ্ছে, এক বিশেষ সম্প্রদায় মিলে আপনাদেরকে শেষ করে দেবে। সংবিধান স্বীকৃত পদে বসে এমন হুমকি? কোটি কোটি বাঙালিকে খুন করার কথা., আপনার মুখো শোভা পায় না। আমি জানতে চাই, তারা কারা, যারা তৃণমূল সরকারের ইশারায় কোটি কোটি লোককে শেষ করে দেবে।'
মুখ্যমন্ত্রীর ওই মন্তব্যর পর বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, 'উনি মনে হয় জানেন না, উল্টো দিকে থাকা সম্প্রদায়টাও জোট বেঁধে ফেলেছে। কলকাতার হিন্দুরাও এবারে জোট বেঁধে ভোট দেবে। এই ধরনের সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক কথাবার্তা এই ধরনের মুখ্যমন্ত্রীর মুখেই সাজে। কারণ তিনি সবসময় এই কার্ড খেলেই নির্বাচনে জিতেছেন'। এমনকী। সাংসদ তথা বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রীর যে বিবৃতি, মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত। সেটা শুধু অসাংবিধানিক নয় সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করার একটা প্রবল প্রচেষ্টা'।
এর পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসা রাষ্ট্রপতিকে অসম্মান করেছে তৃণমূল সরকার। এই অপমান শুধু দ্রৌপদী মুর্মুর শুধু নয়, কোটি কোটি আদিবাসী মানুষের অপমান। ব্রিগেড সমাবেশে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী। রাজ্যের মানুষই এর জবাব দেবে বলে হুঁশিয়ারি।
রাষ্ট্রপতির পশ্চিমবঙ্গ সফরে বিতর্ক নিয়ে নরেন্দ্র মোদি বলেন, 'এই তৃণমূল সরকার সব সীমা পার করে গিয়েছে। তারা শুধু দ্রৌপদী মুর্মুকে অপমান করেনি, কোটি কোটি আদিবাসীকে অপমান করেছে। বাংলার মানুষ তৃণমূল সরকারকে এর জবাব দেবে। নির্মম সরকারকে এর জবাব দেবে। কিছুদিন আগে আদিবাসী সমাজের মেয়ে, মাননীয় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বাংলায় এসেছিলেন। কিন্তু অহঙ্কারে ডুবে থাকা এই নির্মম সরকার সেই অনুষ্ঠানে শুধু না যাওয়াই নয়, অসহযোগিতা করে সেই অনুষ্ঠানের আয়োজনকে শেষ করে দিয়েছে। কারণ, এক আদিবাসী মহিলা এত বড় পদে আছেন। তৃণমূল সরকারের তা সহ্য হয়নি। '
