কলকাতা: প্রায় ২৬ হাজার চাকরি বাতিল নিয়ে এবার মধ্যপ্রদেশের ব্যাপম কাণ্ডের প্রসঙ্গ টানলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিচারব্যবস্থার প্রতি সম্মান রয়েছে বলে জানালেও, মমতা জানালেন এত মানুষের চাকরি বাতিলের নির্দেশ তিনি মানতে পারছেন না। আর সেই প্রসঙ্গেই ব্যাপম কাণ্ডের উল্লেখ করেন মমতা। ব্যাপম কাণ্ডে যেখানে খুনের ঘটনাও ঘটে, সেখানে কতজনের সাজা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। (Mamata Banerjee)
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর বৃহস্পতিবার নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করেন মমতা। সেখানেই ব্যাপম কাণ্ডের প্রসঙ্গ তোলেন। বলেন, "একটা রাজনৈতিক কথা বলছি এবার। এর সঙ্গে আদালতের কোনও যোগ নেই। কিন্তু মধ্যপ্রদেশে ব্যাপমকাণ্ডে কী হয়েছে? ৫০ জনের বেশি লোককে খুন হয়েছে। কী শাস্তি হয়েছে অপরাধীদের? আমাদের এখানে তো প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীকে সিবিআই জেলে রেখে দিয়েছেন! আমরা তো কিছু বলিনি সেই নিয়ে! একই অপরাধীর কতবার শাস্তি হয়? একজনের অপরাধে কতজনের শাস্তি হয়?" (SSC Case)
মধ্যপ্রদেশ থেকে ২০১৩ সালে ব্যাপম কাণ্ড সামনে আসে, যেখানে প্রবেশিকা পরীক্ষা, ভর্তি এবং চাকরিতে ব্যাপক দুর্নীতির তথ্য সামনে আসে। মূলত মেডিক্যাল এবহং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি এবং সরকারি চাকরিতে টাকার বিনিময়ে নিয়োগের অভিযোগ ওঠে। জানা যায়, পরীক্ষা থেকে ফলাফল প্রকাশ, ভর্তি থেকে চাকরিতে নিয়োগ, ব্যাপক দুর্নীতি হয়। মোটা টাকার বিনিময়ে মেডিক্যাল কলেজ এবং ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তির সুযোগ থেকে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের সুযোগ পাইয়ে দেওয়া হয় টাকার বিনিময়েই।
ব্যাপম দুর্নীতিতে নাম জড়ায় লক্ষ্মীকান্ত শর্মা নামের এক ব্যক্তির, যিনি রাজনীতিক এবং আমলাদের হয়ে কাজ করছিলেন বলে জানা যায়। নাম জড়ায় মধ্যপ্রদেশের তদানীন্তন বিজেপি সভাপতি প্রভাত ঝা এবং তাঁর ছেলেদের, কংগ্রেস বিধায়ক বীর সিংহ ভুরিয়া, ABVP-এর বেশ কয়েকজন নেতা এবং RSS-এর পদাধিকারী সুরেশ সোনির। পাশাপাশি আমলাদের অনেকের নামও উঠে আসে চাকরির বিনিময়ে ভর্তি এবং চাকরি পাইয়ে দেওয়ায়।
আজ পর্যন্ত ব্যাপম কাণ্ডের সুরাহা হয়নি যদিও। কিন্তু রহস্যজনক ভাবে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যুর ঘটনা উঠে আসে, যাঁরা তদন্ত প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি ভাবে যুক্ত ছিলেন। নিজেদের চার্জশিটে ১২০০-র বেশি মানুষের নাম উল্লেখ করেছিল সিবিআই। জালিয়াতি, ঘুষ, সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার-সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়। মামলার তদন্ত প্রক্রিয়ায় যুক্ত অন্তত ৪০ জনের রহস্যমৃত্যুর ঘটনা সামনে আসে। মৃতদের মধ্যে কেউ ছিলেন অভিযুক্ত, কেউ সাক্ষী।
অধিকাংশের ক্ষেত্রেই মৃত্য়ুর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় মদ্যপান, আত্মহত্যা এবং পথ দুর্ঘটনাকে। মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় থাকা অন্তত ১০ জনের মৃত্যু পথ দুর্ঘটনায় হয়েছে বলে জানানো হয়। এমনকি ব্যাপম দুর্নীতি কাণ্ডের পর্দাফাঁস করা সাংবাদিকের মৃত্যু হয় রহস্যজনক ভাবেই। ২০১৫ সালে এক সপ্তাহের মধ্যে পাঁচ জনের রহস্যমৃত্যু ঘটে, সেই তালিকায় ছিলেন জবলপুর মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক অরুণ শর্মা, মেডিক্যাল পড়ুয়া নম্রতা দামোর, সাংবাদিত অক্ষয় সিংহের। ২০১৫ সালের মার্চ মাসে মারা যান মধ্যপ্রদেশের তদানীন্তন রাজ্যপাল রামনরেশ যাদবের ছেলে শৈলেশও। এদিন সেই প্রসঙ্গই উঠে এসেছে মমতার মুখে।