কলকাতা: ভোট ঘোষণার পর ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ে, ভোটের মুখে রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশের শীর্ষস্তরের খোলনলচে বদলে দিল কমিশন। ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ে অপসারিত হলেন রাজ্য ও জেলা পুলিশের ১৯ জন আধিকারিক। আর এই বিষয়টি নিয়েই এবার ক্ষুব্ধ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

এদিন কালীঘাটে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় থেকে ২৯৪টি কেন্দ্রেই তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই তালিকা ঘোষণার আগে তিনি বলেন, 'জিততে পারবে না বুঝে, পার্টি অফিসে বসে সব বদলে দিচ্ছেন'। 

মমতার কথায়, 'এখনও নোটিফিকেশন হয়নি, এখন কোনও বিপর্যয় হলে কে দেখবে? এখন কিছু হলে বিজেপি, কমিশনকেই দায়িত্ব নিতে হবে। আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হলেও দায়িত্ব নিতে হবে কমিশন-বিজেপিকে। সব বাঙালি অফিসারকে বদলে দিয়েছেন। বিনীতের মতো অফিসারদের বদলে দিয়েছেন। ইদের আগে কেন সরালেন? দাঙ্গা লাগানোর পরিকল্পনা আছে? সুপার এমার্জেন্সি করে ৪ মাস ধরে সরকার দখল করেছেন'।                                 

সোমবার রাজ্য পুলিশের ডিজি পীযূষ পাণ্ডেকে সরিয়ে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। বদল করা হয়েছিল কলকাতার পুলিশ কমিশনারকেও। তার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না-কাটতেই নতুন রদবদল। কলকাতার ডিসি (সেন্ট্রাল) ইন্দিরার জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হল ইয়েলওয়াড় শ্রীকান্ত জগন্নাথরাওকে। 

কলকাতা সংলগ্ন হাওড়ার সিপি, ব্যারাকপুরের সিপি ও চন্দননগরের সিপিকে সরিয়ে নতুন ৩ আইপিএস নিয়োগ। আসানসোল-দুর্গাপুরের সিপিকেও সরাল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। পুলিশের শীর্ষকর্তাদের পাশাপাশি জেলা পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিকদেরও সরিয়ে দিল কমিশন। 

ADG দক্ষিণবঙ্গ হলেন রাজেশ কুমার সিংহ, ADG উত্তরবঙ্গ কে জয়রমন। আসানসোল-দুর্গাপুরের CP হলেন প্রবীণ কুমার। হাওড়ার পুলিশ কমিশনার হলেন অখিলেশ চতুর্বেদী। চন্দননগরের CP সুনীল কুমার যাদব। কলকাতা পুলিশের ডিসি সেন্ট্রাল সহ ৬টি পুলিশ জেলার এসপিকে সরাল জাতীয় নির্বাচন কমিশন।                                               

এর পাশাপাশি, এক ধাক্কায় ১২ জন পুলিশ সুপার বদল করল নির্বাচন কমিশন। ডায়মন্ডহারবার, পূর্ব মেদিনীপুর, বীরভূম, বারাসাত, বসিরহাট, কোচবিহার, ইসলামপুরের SP বদল করা হয়েছে। মুর্শিদাবাদ, মালদা, পশ্চিম মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ, জঙ্গিপুরেরও SP বদল। ডায়মন্ডহারবারের নতুন SP হচ্ছেন ঈশানী পাল। পূর্ব মেদিনীপুরের নতুন SP হচ্ছেন অংশুমান সাহা।