কলকাতা: রাত পোহালেই স্বাধীনতা দিবস। বেহালায় প্রাক স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই অনুষ্ঠান থেকে বিহারে এসআইআর মামলায় সুপ্রিম-নির্দেশ থেকে স্বাধীনতা দিবসে বাঙালি অস্মিতাকে ফের বক্তব্যে স্থান দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

এদিন মমতা বলেন, 'বাংলায় আসল স্বাধীনতা, যা খুশি করতে পারেন। বলতে পারেন। পড়তে পারেন, কোথাও কোনও বাধা নেই।  কারণ আমরা ছোটবেলা থেকে স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, রামকৃষ্ণদেবের কথামৃত পড়ে বড় হয়েছি। নেতাজির লড়াইতে অনুপ্রাণিত হয়েছি। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস, ক্ষুদিরাম, বিনয়-বাদল-দীনেশ- বাংলাতেই সব। বাংলা ভাষাতেই জাতীয় সঙ্গীত তৈরি হয়েছিল।' 

মুখ্যমন্ত্রী এও বলেন, 'বাংলা নিয়ে আমরা গর্ব করি, তার অনেক কারণ আছে। স্বাধীনতা আন্দোলনে যাঁরা অগ্রণী, তাঁদের মধ্যে সবার আগে বাংলা'।                                    

এদিকে, বিহারে এসআইআর মামলায় সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে ৬৫ লক্ষের নাম কেন বাদ দেওয়া হল সেই কারণও যেমন দেখাতে হবে, নামও প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি আধার কার্ড যে বৈধ প্রমাণ তাও মানতে হবে। এই প্রসঙ্গ টেনেই মমতা বলেন, 'আজ সুপ্রিম কোর্ট বলে দিয়েছে, আধার কার্ড গ্রহণ করতে হবে। এই মামলা প্রথম আমাদের দলের একজন সাংসদই করেছিলেন। বাংলায় ভোটার তালিকায় শেষ সংশোধন হয়েছে ২০০২ সালে। আমরা দেখলাম রেশন কার্ড বাতিল করে দিয়েছে। মারাত্মক যেটা বলেছিল, বাবা-মায়ের জন্মের প্রমাণ দিতে হবে। ১৯৮২ সালে ক'জনের বাবা-মায়ের বার্থ সার্টিফিকেট আছে? কী করে থাকবে, তখন তো সবার বাড়িতে জন্ম হত। প্রায় ৫০ বছর আগে যে জন্মেছে, সে জন্মের প্রমাণপত্র কীভাবে পাবে? পাসপোর্ট ক'টা লোকের আছে? দেশভাগের পর যাঁরা এসেছিলেন, তাঁরা নথি কোথায় পাবেন?'

মমতার কথায়, 'বাংলায় কথা বলা কি অপরাধ? কালকেও মুম্বইয়ে কান কেটে নেওয়া হয়েছে। বাংলায় কথা বললেই ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অসম সরকার এই রাজ্যে নোটিস পাঠিয়ে দিচ্ছে। আমাদের এখানে যাদের স্কিল আছে, তাঁদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বাংলায় কাজ করে বাইরের রাজ্যের দেড় কোটি মানুষ। বাইরের রাজ্যের দেড় কোটি মানুষকে আমরা সুরক্ষা দিই। আমায় দিল্লি গেলে কৈফিয়ত দিতে হবে? বলছে বাংলা ভাষাকে ওরা স্বীকৃতি দিয়েছে'।