সৌভিক মজুমদার, কলকাতা: প্রাথমিকের ৩২ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি থাকছে। তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের রায় খারিজ করে জানিয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ।
কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে খুশি মমতা বন্দোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'শিক্ষকরা বিচার পেয়েছে তাদের পরিবারগুলো সেফ হয়েছে, আমি খুশি। কথায় কথায় কোর্টে গিয়ে চাকরি খেয়ে নেওয়া এটা তো ঠিক নয়। আমাদের চাকরি দেওয়া দরকার, খেয়ে নেওয়া দরকার নয়। বিচারকে আমরা শ্রদ্ধা করি। সুতরাং, আমি সবথেকে খুশি যে, আমার চাকরিরত ভাইবোনেরা, তাদের চাকরিটা আমি সুরক্ষিত করতে পেরেছি।'
বুধবার রায় ঘোষণা করে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রর বেঞ্চ বলে, চাকরি করার সময় এই প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ ওঠেনি। পরীক্ষকদের বেশি নম্বর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, এমন তথ্য সামনে আসেনি। কয়েকজন অসফল প্রার্থীকে গোটা প্রক্রিয়ার ক্ষতি করতে দেওয়া যেতে পারে না। এর ফলে অনেক সৎ চাকরিপ্রাপকের গায়ে কালির ছিটে লাগবে।
রায়ে এও বলা হয়, CBI তদন্তে জানিয়েছে, ২৬৪ জনের ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে, গ্রেস মার্কস দেওয়া হয়েছে। তাদের চিহ্নিত করা গেছে। আরও ৯৬ জনে কোয়ালিফাইং মার্কস পেয়েছিল, যাদের নিয়োগ করা হয়। তাদেরও চিহ্নিত করা গেছে। এই ৯৬ জনেরও চাকরি বাতিল হয়েছে, তবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তারা চাকরি করছে। এই চিহ্নিতকরণের পরও পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করা ঠিক নয়। এখন নতুন করে পরীক্ষার নির্দেশ দিলে প্রার্থীদের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়ার নির্দেশ দিলেও 'ফেয়ার প্লে' হবে না। ৯ বছর পর চাকরি করার পর, তা চলে গেলে, চূড়ান্ত অসুবিধার মুখে পড়বেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ১২ মে এই মামলার রায় দিতে গিয়ে প্রাথমিকের ৩২ হাজার চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেন কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। ২০১৪ সালের ‘TET’-এর ভিত্তিতে ২০১৬ সালে প্রাথমিকে প্রায় ৪২ হাজার শিক্ষক নিয়োগ হয়েছিল। সেই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। মামলা গড়ায় কলকাতা হাইকোর্টে। সেই রায় এদিন খারিজ করল ডিভিশন বেঞ্চ।
এক প্রাথমিক শিক্ষক বলেন, আমরা সাধারণ শিক্ষক। কষ্ট করে পড়াশুনো করে চাকরিটা পেয়েছি। আজকে রায় বুঝেই করেছে আমরা কোনও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। প্রচণ্ড খুশি। আজকে আমরা সবাই খুশি। আমরা সবাই খুশি।