কলকাতা: আর জি কর মেডিক্যালে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুন থেকে SSKM-এ এক নাবালিকা রোগীকে যৌন নিগ্রহের অভিযোগ। একের পর এক ঘটনা নিয়ে যখন সমালোচনার ঝড় উঠেছে, তখন নিজের হাতে থাকা স্বাস্থ্য ও পুলিশ দফতর নিয়ে মুখ খুললেন খোদ মমতা বন্দোপাধ্যায়! বললেন, কেন নিয়মিত পুলিশ ও হাসপাতাল, এই দুই ডিপার্টমেন্ট নিয়ে প্রশ্ন উঠবে? 

Continues below advertisement

শনিবার সরকারি হাসপাতালের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বৈঠকে, এই প্রশ্ন তুললেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, যে দু'টি দফতরের কথা তিনি বলেছেন, সেই দু'টি তাঁরই হাতে। যা নিয়ে নিশানা করেছেন বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা। তিনি বলেন, উনি তো দু'টোরই দায়িত্বে লজ্জা থাকলে এভাবে বলতেন না।' 

অভিযুক্তকে আগে সাসপেন্ড করা হলেও, সে কীভাবে অন্য হাসপাতালে কাজ পেল? সূত্রের খবর, সরকারি হাসপাতালের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বৈঠকে, SSKM- কাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুললেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দোপাধ্যায়ের প্রশ্ন, কেন চুক্তিভিত্তিক এই কর্মীদের অতীত অপরাধের দায় সরকার নেবে? মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। পাল্টা জবাব দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

Continues below advertisement

প্রসঙ্গত, গতবছর আর জি কর মেডিক্যালে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুন ঘিরে উত্তাল হয়েছিল গোটা রাজ্য। বছর ঘুরতে না ঘুরতে একের পর এক সরকারি হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠছে। পাঁশকুড়ায় সরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্যকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। উলুবেড়িয়ায় সরকারি মেডিক্যাল কলেজে নিগৃহীত হয়েছেন জুনিয়র ডাক্তার। বীরভূমে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আক্রান্ত হয়েছেন নার্স। আর SSKM-এ এক নাবালিকা রোগীকে যৌন নিগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। 

একের পর এক এসব ঘটনা নিয়ে যখন সমালোচনার ঝড় উঠেছে, তখন নিজের হাতে থাকা স্বাস্থ্য ও পুলিশ দফতর নিয়ে মুখ খুললেন খোদ মমতা বন্দোপাধ্যায়।                                                        

সূত্রের খবর, শনিবার মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, হাসপাতালে নিরাপত্তা যেন থাকে। বাইরের লোক, অবৈধ লোক আটকাও।                  

আর জি কর-কাণ্ডের পরও সরকারি হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কমিটি তৈরি হয়েছিল। কিনতু, তারপরও SSKM, পাঁশকুড়া, উলুবেড়িয়ার সরকারি হাসপাতালে মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। আর কতদিনে ছবিটা বদলাবে? সেটাই প্রশ্ন।